May 29, 2024, 8:22 am
শিরোনাম :
নরসিংদীর রায়পুরায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পিটিয়ে হত্যা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন বোচাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কুলিয়ারচরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবুল হোসেন লিটন চেয়ারম্যান নির্বাচিত ময়মনসিংহে প্রতিবেশীর সাথে সংঘর্ষের জেরে কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ৩ সাংবাদিক এস,এম ইসাহক আলী রাজুর জন্মদিন আজ ভেড়ামারায় উপজেলার চেয়ারম্যান হলেন মুকুল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শোডাউন, তিন প্রার্থীর জরিমানা বোচাগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর স্কুলছাত্রের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ট্রেনের রুট পরিবর্তন: ভোগান্তির শিকার তিন উপজেলার লাখো মানুষ আসছে ঈদে পারভীন লিসার নতুন চমক “তুমি আমার মনের ভেতর”

কোভিড প্রমাণ করেছে দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা কতটা শক্তিহীন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

ডেস্ক রির্পোট

সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের দেখিয়েছে সংক্রামক রোগ কোনো সীমান্ত চিনে না এবং দুর্বল, ক্ষমতাধর কিংবা উন্নত, উন্নয়নশীল কাউকে আলাদা বিবেচনা করে না। এই ভাইরাস প্রমাণ করেছে কোনো বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সত্যিকার অর্থে কতটা শক্তিহীন।’ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি) আয়োজিত গ্লোবাল ভ্যাকসিন সামিটে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার লন্ডনে স্থানীয় সময় দুপুরে (বাংলাদেশ সময় রাত) বিভিন্ন দেশের সরকার, ফাউন্ডেশন, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের নেতাদের নিয়ে বিশ্ব টিকা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মানবজাতিকে করোনাভাইরাসের মতো মহামারি থেকে রক্ষা করতে দ্রুত টিকা উদ্ভাবনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকাদানই সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ মোকাবেলার অন্যতম উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

জাতিসংঘের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি চার মাসে মানুষের মধ্যে একটি নতুন সংক্রামক রোগ দেখা দেয়। আর গ্লোবাল ভিরোম প্রজেক্টের অনুমিত হিসাব মতে প্রায় সাত লাখ ভাইরাস রয়েছে যেগুলো মহামারি ঘটাতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভাইরাসের অনেকগুলো মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকির সৃষ্টি করতে পারে। তাই মানবজাতির টিকে থাকার জন্য বিদ্যমান ও আরও নতুন টিকার প্রয়োজন হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জিএভিআই অ্যালায়েন্স (সাবেক গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন)-এর সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই লড়াইয়ে জিএভিআই অ্যালায়েন্স আমাদের সর্বোত্তম সহায়তা দিতে পারে এবং আমরা তাদের করতে দিলে ভবিষ্যতেও তারা তা দেয়া অব্যাহত রাখবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে জিএভিআই সারাবিশ্বে ৭৬ কোটির বেশি মানুষকে মারাত্মক রোগের টিকা দিয়েছে এবং এক কোটির বেশি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেবল আমাদের সদিচ্ছাই জিএভিআই’র পূর্ণ তহবিল ও তাদের টিকাদান অবকাঠামো জোরদার নিশ্চিত করতে পারে এবং অতিরিক্ত ৩০ কোটি শিশুকে টিকাদান ও জিএভিআই সহায়তাপুষ্ট দেশগুলোর ৮০ লাখ পর্যন্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তাই কেবল আমি নই, সারা দুনিয়া জিএভিআই’র সহায়তায় আপনাদের বক্তব্য শুনতে অপেক্ষা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ মোকাবেলায় মরিয়া হয়ে একটি কার্যকর টিকা খুঁজছে তেমন সময় টিকা বিষয়ক সহায়তায় মিলিত হওয়ার চেয়ে উত্তম সময় আর হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে এমন একটি উদ্যোগের একজন অংশীদার হিসেবে আমি আপনাদের সঙ্গে থাকতে পেরে আনন্দিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অভিযাত্রায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও এসডিসিজ অর্জনে জিএভিআই বাংলাদেশের সময়ের সমীক্ষায় উত্তীর্ণ অংশীদার প্রমাণিত হয়েছে। ’অনুদান ছাড়া আমাদের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি সফল হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘টিকাদান উদ্ভাবনে জিএভিআই’র সঙ্গে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল স্বাস্থ্য তথ্য সিস্টেমই-এর অন্যতম অগ্রসর ব্যবহারকারী হিসেবে এ অঞ্চলে ডিজিটাইজিং এবং ডাটা সিস্টেম শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অগ্রদূত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সিনপ্রিন্টস ও এনইসির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টিকাদান সেবা উন্নয়ন একটি শিশু বায়োমেট্রিক্স-এর ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার আইডি ২০২০, জিএভিআই ও এটুআই’র অংশীদারিত্বে স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি অনন্য ডিজিটাল আইডেনটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমীক্ষা চালাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশাল আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির বিনিময়ে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মীরা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সীমিত রাখতে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বারকিনা ফেশোর প্রেসিডেন্ট রোচ মার্ক ক্রিস্টিয়ান কাবোরে, ইথিউপিয়ার প্রেসিডেন্ট শাহলে ওয়ার্ক জিউডে, জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তনিও গুতেরেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেডরোজ এ্যাডানোম গিব্রেসিউস এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

 

জোনাকি টেলিভিশন/এসএইচআর/০৪-০৬-২০ইং


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা