1. mostafa0192@gmail.com : admin2024 :
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

ট্রেনের রুট পরিবর্তন: ভোগান্তির শিকার তিন উপজেলার লাখো মানুষ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪
  • ৫০ বার পঠিত

জাহিদ হাসান, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া):

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা-সহ মিরপুর ও দৌলতপুরের লাখো মানুষ সুন্দরবন, বেনাপোল এক্সপ্রেস-এর মত ঢাকাগামী বঙ্গবন্ধু্ সেতু হয়ে একমাত্র ট্রেন চিত্রা এক্সপ্রেস হারাতে বসেছে। এতে ব্যবসায়ী, যাত্রী সহ ভোগান্তির শিকার হবে লাখো মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১লা নভেম্বর-২৩ইং সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও ২রা নভেম্বর-২৩ইং বেনাপোল এক্সপ্রেস এই দুটি ট্রেন পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা টু ঢাকা চলাচলের কারণে ভেড়ামারা, দৌলতপুর ও মিরপুরের শত শত ব্যবসায়ীদের শতভাগ ব্যবসা কমে গিয়েছে। এখন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা তাদের। শুধু তাই নই চরম বিপদগ্রস্থ অবস্থায় পরেছে টাঙ্গাইল, জয়দেবপুর, এয়ারপোর্ট গামী যাত্রীরা। এবার চিত্রা এক্সপ্রেস রুট বদলের কথা শুনে মাথায় বাঁশ পড়ার মতো অবস্থা তাদের।

ঢাকা জয়দেবপুর গামী এক যাত্রী জানান, পদ্মা সেতু আমাদের গর্বের। তার স্বকীয়তা বজায় থাক সেটা আমরাও চায়। কিন্তু সেটা অন্য কোন রুটের ট্রেন তুলে নিয়ে হোক তা কাম্য না। সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস রুট বদল হয়েছে এবার আমাদের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম চিত্রা এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু দিয়ে গেলে আমরা জয়দেবপুর যাবো কি করে?

কুষ্টিয়া সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আসমান আলী জানান, ১৫-২০ লক্ষ মানুষের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে, এ এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য, রাজনীতি-অর্থনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক ভেড়ামারা রুটের ট্রেনগুলো রুট পরিবর্তন করে চলে যাচ্ছে অন্যত্র। গুরুত্ব হারিয়ে বঞ্চিত হচ্ছে ভেড়ামারা, দৌলতপুর ও মিরপুর (একাংশ) অঞ্চলে বসবাসকারী একটা বিশাল জনগোষ্ঠী। বেনাপোল এক্সপ্রেস এবং সুন্দরবন এক্সপ্রেস ইতিমধ্যে এ রুট থেকে তুলে অন্য রুটে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১লা জুন-২৪ থেকে এ রুটে ঢাকাগামী একমাত্র ট্রেন চিত্রা এক্সপ্রেস ও অন্যরুটে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে ভেড়ামারা বাজার, বিশেষ করে স্টেশনের আশেপাশের ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পোল্ট্রি উদ্যোক্তা শাহিনুর রহমান জানান, আমি একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা। পোল্ট্রি খামার, পোল্ট্রি হ্যাচারি, পোল্টির ওষুধ ও খাদ্যসহ ব্যবসার প্রশিক্ষণে যায়। চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকাতে মাসে কয়েক বার যেতে হয়। ভেড়ামারা থেকে ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকার কারণে সারাদিন ব্যবসার সকল কাজ সেরে রাত্রে ট্রেন ধরে ঢাকা যায়। বিভিন্ন কাজ সেরে আবার রাত্রে ট্রেন ধরে ভেড়ামারায় আসি। এতে সময় অর্থ দুইটাই বাচে। বর্তমানে যদি ঢাকা থেকে ভেড়ামারা ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকে এতে করে আমাদের সময়, অর্থ দুইটাই অপচয় হবে এবং ক্ষতির সম্মুখীন হবো।

ভেড়ামারা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসলাম জানান, একটা এলাকা কতটুকু উন্নত তা নির্ভর করে সেই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু ভেড়ামারার ইতিহাস-ঐতিহ্য, রাজনীতি-অর্থনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক ট্রেনগুলো রুট পরিবর্তন করে চলে যাচ্ছে। গুরুত্ব হারিয়ে বঞ্চিত হচ্ছে ভেড়ামারা, দৌলতপুর, মিরপুর ও মেহেরপুরের গাংনি অঞ্চলে বসবাসকারী একটা বিশাল জনগোষ্ঠী। কারণ গুলি চিহ্নিত করে ভেড়ামারা নাগরিক কমিটি তুলে নেওয়া খুলনা থেকে ভেড়ামারা হয়ে ঢাকাগামী সুন্দরবন, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুনর্বহাল ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বন্ধ না করার জন্য স্থানীয় মানুষের সময়ের দাবি পুরণ করার অভিপ্রায়ে আগামী ২৫শে মে-২৪ সকাল ১০ টায় রেল স্টেশনে জনস্বার্থমুলক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সর্বস্তরের মানুষের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হবে এবং দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সর্বস্তরের নাগরিকদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

ডাকবাংলো ও বাবর আলী সুপার মার্কেট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম মিলন জানান, অবিভক্ত বাংলায় বিশেষ করে পূর্ব বাংলা অংশে কলকাতা টু জগতি প্রথম রেলওয়ে সার্ভিস চালু হয়। এরপর কলকাতা টু ভেড়ামারার দামুকদিয়া ঘাট। তারপর রায়টা পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। দামুকদিয়া থেকে রেল ফেরিতে সাঁড়াঘাট হয়ে উত্তরাঞ্চল, এভাবে রেল সম্প্রসারিত হয়। একসময় ভেড়ামারা রেলওয়ে জংশন ছিল। কালের আবর্তে তা হারিয়ে গেছে।দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, বেনাপোল এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্টেন ভেড়ামারা হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে ঢাকা যাতায়াত শুরু করে। ফলে কুষ্টিয়ার মিরপুর, দৌলতপুর, ভেড়ামারা, মেহেরপুরের গাংনি, মেহেরপুর অঞ্চলের যাত্রীগণ ভেড়ামারা রেলস্টেশন ব্যবহার করে সিরাজগঞ্জ, ক্যাপ্টেন মনসুর, যমুনা পুর্ব ও পশ্চিম, টাঙ্গাইল, জয়দেবপুর, ঢাকা বিমানবন্দর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, কমলাপুর যাতায়াত করতো। সদ্য সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি তুলে নিয়ে ট্রেনের রুট পরিবর্তন করায় এ অঞ্চলের যাত্রীগণ উল্লেখিত স্থান গুলোতে যাতায়াতের জন্য বিড়ম্বনায় পড়েছে।

এছাড়া ট্রেন দু’টো তুলে নেওয়ায় ভেড়ামারা রেল স্টেশন সংলগ্ন ভেড়ামারার বৃহৎ বাজারটি অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে। রেল স্টেশন কেন্দ্রীক মানুষের বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাড়তি লোকের আনাগোনা কমে গেছে। তাছাড়া আগামী মাসে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি তুলে নেয়া হবে বলে জানা গেছে। এ কারণে ভেড়ামারার গুরুত্ব দিন দিন কমে যাচ্ছে। শহরের ব্যস্ততা লোপ পাচ্ছে।

এবিষয়ে ভেড়ামারা স্টেশন মাষ্টার সাংবাদিক জাহিদ হাসানকে জানান, আগামী ১লা জুন-২৪ থেকে ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট পরিবর্তন সম্পর্কে ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তারা এখনো আমাদের কোন তথ্য প্রদান করে নাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 Jonaki Media and Communication Limited
Design By Raytahost