
নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর শিবপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় মোস্তফা মিয়া (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে একটি মাদক ব্যবসায়ীচক্র। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার শাহপুর পাটুয়ারপাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহত মোস্তফা মিয়া উপজেলার শাহপুর পাটুয়ারপাড় গ্রামের আলতাফ হোসেন মিয়ার ছেলে। তিনি গত প্রায় দেড় বছর আছে এক মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় পায়ে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে অনেকটা পঙ্গু অবস্থা বাড়ীতেই শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকা বাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে মোস্তফা মিয়া বাড়ীর সামনে একটি দোকানে গল্প-গুজব করছিলেন। এসময় দোকানের কিছু দূরে একটি ক্ষেতের মাঝখানে ২/৩ জন অপরিচিত যুবক বয়সের ছেলে কি যেন করছে এমন অবস্থায় দেখতে পায়। ওই সময় তিনি তার ভাতিজাকে ডেকে ক্ষেতের মাঝখানে অপরিচিত ছেলেগুলো কি করছে তা দেখতে বলে। তার ভাতিজা সেখানে গিয়ে ছেলেগুলোর হাতে গাঁজার ছোট একটি প্যাকেট দেখতে পায় এবং গাঁজা সমেত তাদেরকে হাতে নাতে ধরে ফেলে মোস্তফা মিয়ার কাছে নিয়ে আসে। তিনি ওই ছেলেগুলোকে এব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় পাটুয়ারপাড় গ্রামে মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে জজ মিয়ার কাছ থেকে তারা গাঁজা কিনতেই এই গ্রামে এসেছে। ঠিক ওইসময় জজ মিয়া এসে ছেলেদের দাঁড় করিয়ে এসব কথা জিজ্ঞেস করার কারণ জানতে চায়। তখন এলাকার ছেলে হিসেবে শাসনের ছলে তাকে বকা-ঝকা করে সেই সাথে একটি কঞ্চি দিয়ে দু-তিন বেতরাঘাত করে। এতে জজ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে স্থান ত্যাগ করে বাড়ীতে গিয়ে তার মামা ওই গ্রামেরই মৃত আফতু উদ্দিনে ছেলে লোকমান মিয়াকে জানাল। লোকমান তার ভাগিনাকে মারধোরে কারণ জানতে ওই দোকানে মোস্তফা মিয়ার কাছে যায়। দুইজনের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে জজ মিয়া পিছন দিক থেকে এসে মোস্তফা মিয়ার পিঠে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে একটি কোপ বসিয়ে দেয়। দ্বিতীয় পব দেওয়ার সময় মোস্তফার ভাতিজা চাইনিজ কুড়াল টি ধরে ফেলে এতে তার হাতে চাইনিজ কুড়ালের কোপ লেগে কিছুটা অংশ কেটে যায়। এসময় আশপাশের লোকজন জমতে থাকলে জজমিয়া হাতের চাইনিজ কুড়াল ফেলে জজ মিয়া তার মামা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে ঘটনাটিকে অন্যভাবে মোড় দিতে নিজেদের বাড়িঘর নিজেরাই ভাঙচুর করে ছিটকে পড়ে।
এদিকে চাইনিজ কুড়ালের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়া মোস্তফা মিয়াকে এলাকাবাসীর সহায়তায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এঘটনায় শিবপুর মডেল থানায় মোস্তফা মিয়া ছোট ভাই ফারুক মিয়া ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া জানান বিষয়টি অবহিত আছে বলে জানান। তিনি বলেন ঘটনার পর সহকারী পরিদর্শক (এসআই) ইমরান ঘটনাস্থলে যান এবং উভয় পক্ষের কথা শুনেন।
এ জাতীয় আরো খবর..
Leave a Reply