1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : খুলনা বিভাগ : খুলনা বিভাগ
  3. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  4. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  5. [email protected] : mahin : mahin khan
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

নরসিংদীতে মাল্টা চাষ করে বেকারত্ব গোছাছেন অনেক যুবক

মাজহারুল ইসলাম রাসেল
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৬৪ বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীতে বিদেশি ফল মাল্টার চাষ ব‍্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠচ্ছে। মালটা  চাষে ভাগ্য খুলছে অনেক হতভাগা যুবকের। ইউরোপীয় এই ফলটি সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে  এখন চাষ হচ্ছে নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায়। মাল্টা চাষে বিঘা প্রতি এক লাখেরও অধিক টাকা উপার্জন করছে জেলার চাষিরা। অল্প পুঁজিতে লাভ অধিক লাভজনক হওয়ায় মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদের দিকে ঝুঁকছে জেলার বেকার যুবক ও কৃষকরা।
কৃষি অধিদপ্তর কার্যালয়  সূত্রে জানা যায়,  নরসিংদীতে লেবুজাতীয় ফলগুলো ভালো ফলন হয়। এ জেলার মাটি লেবুজাতীয় ফসলের জন্য উপযোগী। সেই চিন্তা ভাবনা থেকে ২০১১ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে ২০১৩ সালে সাফল্য হয়ে ২০১৬ থেকে জেলায়  প্রথম মাল্টা আবাদ শুরু হয়েছে। এই এলাকায় বারি মাল্টা-১ চাষে কৃষি সম্প্রসারণ চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় ফলটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টা চারা রোপণ করে একটানা ২০ বছর ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটা গাছ থেকে প্রথম বছর ১০ থেকে ২০ কেজি হারে ফল পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় বছর থেকে গড়ে এক মণের বেশি ফল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত চারা রোপণের দুই বছর পর গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়। জেলায় এ বছর ৫৩ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে শিবপুর , রায়পুরা , বেলাবো ও মনোহরদী এই চার উপজেলায় মাল্টার ভালো ফলন পাচ্ছে চাষীরা। আগামীতে মাল্টা চাষের আরোও পরিধি বাড়াতে উপজেলা কৃষি অফিস ও নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিস মনিটরিং ও প্রশিক্ষন দিচ্ছেন মাল্টা চাষীদের ।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে , সাইট্রাস ফসলের মধ্যে মাল্টা অন্যতম জনপ্রিয় ফল। বিশ্বের সর্বমোট উৎপাদিত সাইট্রাস ফসলের দুই তৃতীয়াংশ হলো মাল্টা। ভিয়েতনাম, উত্তর পশ্চিম ভারত ও দক্ষিণ চীন মাল্টার আদি উৎপত্তি স্থল। তবে বর্তমানে এই ফলটি বিশ্বের উষ্ণ ও অব–উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় বেশী চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশে এই ফলটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং দিন দিন এর চাষ বেড়ে চলছে। কমলার তুলনায় এর অভিযোজন ক্ষমতা বেশী হওয়ায়, পাহাড়ি এলাকার ফলটি বর্তমানে নরসিংদী লাল মাটি এলাকায় সহজেই চাষ করা যাচ্ছে। এখানকার কৃষকরা মাল্টা চাষ করে সফল হচ্ছেন। এই এলাকার মাল্টা মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়ে থাকে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের বিরাজনগর গ্রামের কৃষক ইউসুফ মিয়ার বাগানে একশ গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে মাল্টা।

এসময় তার সাথে কথা বললে তিনি জোনাকী টেলিভিশনকে বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন শেষ করে। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে বেকার হয়ে পড়েন। বেকার অবস্থায় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে নিজের  ৪০ শতক জমিতে ১শত মাল্টার চারা লাগান।

তিনি আরও বলেন, প্রথম বছরে অল্প ফলন আসলেও বর্তমানে প্রতিটি মাল্টা গাছে ২ শ’ ৫০ থেকে ৩ শ’টি করে মাল্টার ফলন আসছে। বাগানের মাল্টার উপযোগী ফলন আনতে প্রতিটি গাছের পিছনে দিয়েছেন বাড়তি পরিচর্যা। বাগান করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। এই বছর ইতিমধ্যে তার এ বাগান থেকে ৪০/৪৫ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রিও করেছেন এবং আরও ৪০/৪৫ হাজার টাকা মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি মনে করছেন। তার এই বাগান দেখে স্থানীয় অনেক কৃষক মাল্টা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে  তিনি জানান।

মাল্টা চাষি ফোরকান আহমেদ  বলেন,  ‘এক সময় বেকার ছিলাম, সবার দেখা-দেখি আমি আমার বাড়িতে মাল্টা চাষ করেছি, মাল্টা চাষ করে অনেক লাভবান ও স্বাবলম্বী হচ্ছি। আমার মতো আশেপাশে যারা বেকার রয়েছে তারা সকলে যদি অল্প সংখ‍্যক গাছ দিয়েই মাল্টা চাষ শুরু করে তাহলে আমাদের দেশের বেকারত্ব অনেকটাই ঘুচবে। সবাই যদি মাল্টা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে তাহলে বিদেশ থেকে মাল্টা আর আমদানি করতে হবে না। সেদিন বেশীদূরে নয় যেদিন আমাদের দেশের সবুজ মাল্টা দিয়েই মান্টার চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।’

মাল্টা চাষি মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাগানে ১শত ২০টা মাল্টার গাছ আছে। এই বাগান করতে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম বছর যখন ফল আসে তখন ১৫ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করি। এবার বাগানে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। আশা করি এবার ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি করতে পারবো। এই মাল্টা চাষ করে আমরা অনেক লাভবান। বাজারে এই ফল ১৮০ টাকা করে বিক্রি করে। অনেক পাইকার ফল কেনার জন্য যোগাযোগ করে বাগানে এসে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা করে ক্রয় করেন।’

অপর এক মাল্টা চাষি নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, ‘আমার বাগানে মাল্টা ৫ থেকে ৬ টায় এক কেজি হয়। একটা গাছে ২৫০ শ’ থেকে ৩ শ’ মাল্টা আসে। এই ফল ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা করে বিক্রি করা যায়। আমাদেরকে বাজারে যেতে হয়না বেপারিরা বাড়ি থেকে ফল কিনে নিয়ে যায়।”

মাল্টা চাষি মো: সুলতান মিয়া বলেন,  ‘হলুদ মাল্টা  বিদেশি ফল। এই মাল্টায় বিষাক্ত ফরমালিন দেওয়া হয়। আমাদের দেশের সবুজ মাল্টা যখন খাওয়ার উপযুক্ত হয় তখন আমরা কোন বিষাক্ত ঔষধ দেই না। এই জন্য সবুজ মাল্টা খুব চাহিদা। নরসিংদীর আশেপাশে জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে পাইকাররা বাগানে এসে ফল কিনে নেয়। এই মাল্টা সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় চাহিদা অনেক ভাল এবং পরিশ্রম কম, মাল্টা চাষে খরচ কম হওয়ায় আমরা খুব লাভবান। এই ভাবে যদি বাগানে ফলন আসে তাহলে আগামীতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাহিরেও পাঠানো সম্ভব হবে।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক জেলা প্রশিক্ষন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রশিদ জোনাকী টেলিভিশনকে বলেন, চলতি মাল্নটা মৌসুমে রসিংদীতে  ৫৩ হেক্টর জমিতে বারি ১ জাতের মাল্টা চাষ করা হচ্ছে । শিবপুর , রায়পুরা , বেলাবো ও মনোহরদী এই চার উপজেলায় মাল্টার ভালো ফলন পাচ্ছে চাষীরা। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ১২ মেট্রিক টন ফল পাওয়া যায়। ইতোমধ‍্যে আমরা ভিয়েতনাম জাতের একটা মাল্টা যেটাতে সারা বছর ফলন আসে, সেইটাও আমরা অনেক বাগানে রোপন করতে দিয়েছি যাতে সারা বছর উৎপাদন করা সম্ভব হয়। আর এই মাল্টা উৎপাদন হলে বিদেশ থেকে যে কোটি টাকার মাল্টা আমদানি করতে হয় সে আমদানি নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..