1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : খুলনা বিভাগ : খুলনা বিভাগ
  3. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  4. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  5. [email protected] : mahin : mahin khan
শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের তাৎপর্য

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২২
  • ২৩৩ বার পঠিত

আঃ রহমান শাহঃ

আজ যারা বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার ইতিহাস রচনা করতে চায়, যারা জতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষক পোষক জাতির ভ্রাতা, জাতির ত্রাতা স্বাধীনতার নায়ক হতে চায় আমার এ লেখা তাদের জন্য। বাংগালীর স্বাধীনতার ইতিহাস লেখা নয়। স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের তাতপর্য বুঝার জন্য।

শুরু হল বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বাঙালী সব সময়ে নিজের ফসলের উপর নিজের ভূমির উপর আত্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য যুদ্ধ করেছে আত্মাহুতি দিয়েছে সেই প্রাগৌতিহাসিক যুগ থেকে, কিন্ত স্বাধীনতা পায় নাই এমনকি স্বাধিকার ও না। শুধুই ভূমি দাস হয়ে ফসল ফলিয়েছে আর তার শুবিধা ভোগ করেছে ধনিক, বনিক, জোতদার, উচ্চবর্নের জমিদার, মনসাবদার, নবাব, সম্রাট, আর বৃটিশরা। বাংগালী বংশ পরস্পরায় কৃষি কাজ করেছে কারন ভারতের পূর্বাঞ্চল নদী বিধৌত পলিমাটি ও মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে উৎপাদনশীল ভূমি ও ম্যানগ্রভ বন, জঙ্গল, জলাভূমি। এখানে প্রাকৃতিক নিয়মে জলাসয়ে প্রবাহমান নদীতে, মাছের প্রজনন, অপেক্ষাকৃত কম পরিশ্রমে শস্য উৎপাদন হতো। প্রকৃতিক লীলাভূমি শস্য স্যমল এলকা, বংশপরম্পরায় চাষ বাস করায় শিক্ষা ধিক্ষার প্রতি আগ্রহ, অগ্রগতি কম ছিলো। তাই চিরো কালই শোষণ বঞ্চনার মধ্যে জীবন কাটাতে হয়েছে। বহু জাতি গোষ্ঠী, ধর্মের, বিধর্মের, নির্জাতনে নিষ্পেশিত জাতি বাংগালী। বহু লোকএ ভূখণ্ডে এসেছে, দখল করেছে, ভোগ করেছে, শোসন করেছে, লুট করেছে, মগজলদস্যু, পর্তুগিজ, ওলন্দাজ,, ফরাসি, গ্রীস, বর্গীয়, শেষ সময় বৃটিশ অত্যাচারে জর্জরিত হয়েছে, কেউ কেউ বসবাস ও করেছে তবে খুবই নগন্য। শেই শোষনের জাঁতাকলের থেকে মুক্তির জন্য লরাই করেই বাঁচতে হয়েছে। কতপ্রান, কত যুবক, কত মায়ের বুক খালি হয়েছে তাদের ইতিহাস কেউ লিখে রাখে নাই। বৃটিশ বেনিয়াদের হাতে ও এ দেশীয় কুলাঙ্গারদের খপ্পরে বাংলর শেষ সূর্য অস্তমিত হয় ১৭৫৭ তে পলাশীর প্রান্তরে বৃটিশ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর কাছে শিরাজ উদ দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে, শিরাজের পতনে এ দেশীয় মীরজাফর, মীর মদন, রাজা রায় দুর্লভ, রাজা রাজবল্লভ, ইয়ার লতিফ, ইয়ার মোহাম্মদ, ঘশিটি বেগম এর সরযন্ত্রের মাধ্যমে। তারপর গঙ্গা, পদ্মা মেঘনা, যৃমুনা, ভগীরথি, ব্রম্মপুত্র নদী দিয়ে কত জল, কত রক্ত, কত অস্রু কত শ্রত বয়ে গেলো কে তাঁর খোজ রাখে।
১০০ বছরের কম্পানির গোলামীর পর ভারত বাসির চৈতন্য উদয় হলো। শুরুহলো বৃটিশ হটাও আন্দোলন, ১৮৫৭ সালের সেই আন্দোলনের অগ্র নায়ক সিপাহি বিপ্লবের পরাজয়ে আত্ববলী দিয়ে অনুধাবন করলো স্বাধীনতা অত সহজ না। শুরু হল সর্ব ভারতীয় গনমুক্তির সংগ্রাম সে সংগ্রামে বাংগালী ও মুসলমানদেরই অগ্রনী ভূমিকা থাকলেও গোপনে লোক চক্ষুর আরালে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকলো ভারতীয় নেতা, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, কৃষক, মজুর, শ্রমিক সবার একই দাবী স্বায়ত্তশাসন। এ পর্যায়ে কিছু শিক্ষা ও উন্নয়নের কাজ করলেও বৃটিশ দমন পিরন কম ছিলো না। সমগ্র ভারতের সম্পদ লুন্ঠন কারী বৃটিশরা কি সহজে ছাড়ে। এরই মধ্য ১৯১৪ সালে শুরু সালে প্রম বিশ্বযুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বৃটিশ আমেরিকানরা টিকে গেলেও খাজনা, কর, কমিশন, বৃদ্ধি হল, বৃদ্ধি হলো দ্রব্য মূল্য, নিত্য ব্যাবহার্য ভোগ্য পন্যের দামও। নির্যাতিত নিপিড়ীত ভারত, বাংলার শস্য চালান হতে থাকলো বৃটেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। উৎপাদন ভারত বাসির ভোগ করে বিদেশীরা। ভারতবর্ষে শুরুহল অভাব অনটন, অনাহার, দুর্ভিক্ষ।

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতে আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলো। এযুদ্ধে বৃটিশ মিত্ররা নিশ্বেস হতে থাকলো অর্থ, সম্পদ, সরঞ্জাম, রসদ, সমরাস্ত্র, জনবল। জাপানি, জার্মানী, ইতালির ক্রমান্বয়ে বৃটিশ উপনীবেশগুলি দখল করে নিচ্ছে। তখন তারা স্থির করলো উপনিবেশ থেকে সম্পদ ও সৈন্য সংগ্রহের, এদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন তিব্রথেকে তিব্র হতে থাকলো। বাধ্যহয়ে সৈন্য ও সম্পদ সংগ্রহের জন্য বৃটিশ ভারতীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সমঝোতা করতে বাধ্য হলো। এদিকে গান্ধী, নেহেরু, প্যাটেল, জিন্নাহ, লিয়াকত আলী, ওয়ালী খান, ভাসানী, শেরে-বাংলা, সোহরাওয়ার্দী সবাই অহিংস আন্দোলনে যোগ দিলেন। নেতাজী সুবাস বসুর নেতৃত্বে অহিংস আন্দোলন রূপ নিলো স্বহিংসতায় একদিকে নেতাজীর অনুসারীদের স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্বে চোরাগোপ্তা আক্রমন, অহিংস আন্দোলন, বৃটিশ পন্য বর্জন, খণ্ডযুদ্ধ, আর একদিকে বৃটিশ পন্য বর্জন, বৃটিশ হটাও। নাস্তানাবুদ হয়ে বৃটিশরা
বাধ্য হলো যুদ্ধে ভারতীয়রা বৃটিশের পক্ষে যুদ্ধকরলে তারা ভারতের স্বাধীনতা দিবে এমন চুক্তি ও অঙ্গিকার করতে। নেতারা ভাবলো এতে ভারতীয় বাহিনী প্রশিক্ষিত, সংগঠিত ও সু সজ্জিত হবে।

এদিকে নেতাজীর নেতৃত্বে সর্বভারতীয় এক বাহিনী গড়ে তুললেন। যুদ্ধে একদিকে জাপানিরা বার্মা পর্যন্ত পৌঁছে গেলো। আবার নেতাজী ও তার অনুসারীরা বর্মার জঙ্গলে অবস্থান নিয়া বৃটিশদের উপরে চোরা গোপ্তা হামল করা শুরু করলো, বৃটিশ সৈন্য, বৃটিশ ব্যাবসা মার খেতে লাগলো । চট্টগ্রামে মাষ্টার দা সুর্যসেনের নেতৃত্বে প্রায় স্বাধীন হয়ে গেল। এতে বৃটিশরা ভিতসন্ত্রস্ত হয়ে গেল, যদিও সে স্বাধীনতা ১০ দিনের বেশী টিকে নি। তবে বৃটিশরা জাপানী, জার্মানীদের চেয়ে নেতাজীর ভয়ে বেশী ভিত হয়ে পরে তদুপরি দুর্ভিক্ষ চলছিলো সারা ভারতে। তাই ১৯৪৬ সালে যুদ্ধ শেষ হলে ভারতের স্বাধীনতার দাবী সামনে চলে এলো। নেতাজী জাপানে আত্মগোপনে যাওয়ার সময় বিমান দুর্ঘটনায় মারত্মক আাহত হয়ে সেখানেই গোপনে চিকিৎসা নিতে থাকেন ও পরে মারা যান। বৃটিশরা শেষ পর্যন্ত জয়ী হলে ভারতের স্বাধীনতার প্রশ্নে সামনে এল দ্বিজাতিতত্ত্ব, বৃটিশ ও হিন্দু দের কাছে নির্জাতিত মুসলমানের জন্য আলাদা ভূখন্ড আর হিন্দুদের জন্য আলাদা ভারত। শুরু হলো পাকিস্তান আন্দোলন, সে আন্দোলনেও বাংলার নিপীড়িত মুসলমানরা অগ্রনী ভূমিকা রাখে। ভারতের প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মুসলমান নেতারা অনেকে খেলাফতের দাবী করে। শেষ পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলের পাঞ্জাব, সিন্ধু, ব্যালুচিস্তান কাশ্মীর নিয়ে পশ্চিমাঞ্চলে পাকিস্তান ও পূর্বাঞ্চলে পূর্ব বাংলা নিয়ে ২টি প্রদেশ সমন্বয়ে একটি মুসলিম রাষ্ট্রের দাবী তুললো মুসলিমরা। কিন্তুু কাস্মীর প্রশ্নে বৃটিশরা অপশন দিলো, কাশ্মীরের সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিমরা পাকিস্তানের পক্ষে ও হিন্দু রাজা ভারতের পক্ষে অপশন দিলে কাশ্মীর ২ খন্ডত হয়। অর্ধেক নিয়ে রাজা ভারতে আর অর্ধেক পাকিস্তানি দখলে চলে যায়। আজও কাশ্মীর, প্যালেষ্টাইন, আরাকান পরাধীন। কিন্তুু পূর্ব বাংলা হারালো ত্রীপুরা, আসাম সহ এক ভিশাল ভূখণ্ড যা ভারতীয় নেতাদের কুট চালে হেরে গেল মুসলিম লীগ।
১৯৪৭ এ দেশ ভাগ ১৪ই আগষ্ট পাকিস্তান ও ১৫ই আগষ্ট ভারত স্বাধীন হলো। দেশ হারালো অসংখ্য যুবক,, যোদ্ধা, সংগ্রামী নেতা কর্মী, স্বাধীনতার সৈনিক, অনেক মায়ের কোল খালি হলো তার ভিতরে হিন্দু মুসলিম রায়ট, নিজ দেশে পরবাসী হলো অসংখ্য লোক বাস্তুচ্যুত হলো, বহু হিন্দু মুসলমান সরনার্থী হলো, সম্পদ, সন্তান, সম্ভ্রম হারালো, ভাইয়ে ভাইয়ে হানা হানি, কাটা কাটি, মারামারি। অনেক রক্ত অনেক জল গড়ীয়ে গেল বাংলা, বিহার, উরিষ্যায়, পাঞ্জাব, কাস্মীর, সিন্দের নদীতে। বাংলার নেতা এ কে ফজলুল হক, ভাষানী, সোহরাওয়ার্দী, পঃ পাকিস্তানের নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান, নবাব নসরউল্লাহ খান, বেলুচিস্তানে ওয়ালী খান। পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের নেতারা আবার নিরীহ বাংগালীর উপর নতুন করে শাসন শোষণ শুরু করলো আঘাত হানলো বাংগালীর ভাষা, সংস্কৃতির উপর। গর্জে উঠলো বাংলার নেতারা বুঝতে পরলো এ পাকিস্তান বাংলার মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা হবে না, ভাষা, সংস্কৃতি রক্ষা হবে না, পাবেনা ন্যজ্য অধিকার।

বৃটিশের ভারতে মুসলমানরা সংখ্যা লঘু ও নির্জাতীত হতে থাকলো। ১৯০৫ সালে বংগ ভংঙ্গর পর মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় গঠিত হলো মুসলিম লীগ, আর ভারতীয় হিন্দুদের উদ্যোগ গঠিত হল কংগ্রেস। উভয় দলই ভারতের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন, সংগ্রাম, নেগোসিয়েশন করলেও তারা দুইটি আলাদা ভূখন্ডের দাবীতে সোচ্চার।
ছাত্র যুবকের স্বার্থ রক্ষায় ১৯৪৮ সালে ঘঠিত হলো পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগ, ১৯৪৯ সালে ২৩শে জুন মুসলিম লীগের একাংশ ভেঙ্গে অপেক্ষাকৃত তরুন শ্রেনীর নেতৃত্বে গটিত হল আওয়ামী মুসলিম লীগ। সভাপতি মাওলানা ভাসানী আর সেক্রেটারী এডভোকেট সৈয়দ শামসুল হক সাহেব নীর্বাচিত হলেন।

বাদ সাধলো জিন্নার এক দেশ এক ভাষা নীতি, ৪৮ জিন্নাহ রেসকোর্সে ঘোষণা করলেন পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে উর্দু, তখনই বাংলার নেতারা প্রতিবাদ করলো, পূর্ব পাকিস্তানের কৃষক শ্রমিক, মেহনতী মানুষের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে লাহরে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের গোল টেবিল বৈঠকে প্রদেশ সমূহের স্বায়ত্তশাসনের দাবী তুলে ধরা হলো, কিন্তু পাকিস্তানের শাসকরা তা মানতে রাজিনা। বৈঠকে কোনো কোনো বিষয় একমত হলেও তা বাস্তবায়ন হলো না। পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা করার জন্য ৫৪ সালে গন পরিষদের নির্বাচন হলো পূর্ব বাংলা থেকে শেরে-বাংলার কৃষক শ্রমিক পার্টি, মাওলানা ভাসানীর ন্যাপ, সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগ মিলে যুক্ত ফ্রন্ট গঠিত হলো। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লিগের পূর্ব বাংলায় ভরাডুবি হলো, যুক্তফ্রন্ট সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করলো কিন্তু পশ্চিমাদের সরজন্ত্র শেষ হলো না। যুক্ত ফ্রন্টের সরকার অনাস্থার মাধ্যমে ভেঙে গেলে মুসলিম লিগের সরকার গঠিত হল, সংখ্যা লঘু সরকার। এদিকে ভাষা সংস্কৃতির দাবী, পূর্ব বাংলার ন্যায্য হিস্যার দাবী, চাকুরী বাকরীতে সংখ্যার ভিত্তিতে নিয়োগের আন্দোলন চলতেই থাকলো। অবশেষে মুসলিম লীগের লিয়াকত আলীখানের সরকারের পতন ঘটিয়ে স্কানদার মীর্জার সামরিক শাসন জারী, একবছরের মধ্যে ইস্কান্দার মীর্জাকে হটিয়ে জেনারেল আইয়ূব খানের মার্শাল ল ও গদী দখল। সামরিক জান্তার নির্জাতন বারতে বারতে আন্দোলনে অতিষ্ঠ হয়ে ১৯৬৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতাদের কারারুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে অগরতলা সরযন্ত্র মামল শুরু করলো আয়ূব খান। জেল খানায় হত্যা করা হলো সার্জেন্ট জহুরুল হককে।

পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র শিক্ষকরা ভাষা সংগ্রাম কমিটি করে রাষ্ট্র ভাষা, মাতৃ ভাষা বাংলার দাবিতে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুললো, ৫২তে ভাষা আন্দোলনের মিছিল জরুরী অবস্থা ভেঙ্গে মিছিল বের করলে, ছাত্র মিছিলে গুলি চালালো, নিহত হলো রফিক, শফিউর, বরকত, জব্বার। নুরুল আমিনের প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকার তখন ক্ষমতায়। রাস্তায় নামলো বাংলার কৃষক শ্রমিক, দীর্ঘদিন বঞনা, শোষণ, বৈসম্য অতিষ্ঠ বাংলার ঘরে ঘরে মেহনতী মানুষের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে লাহরে গোল টেবিল বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবী তুলে ধরা হলো, কিন্তু পাকিস্তানের শাসকরা তা মানতে রাজিনা। বৈঠকে কোনো কোনো বিশয় একমত হলে তা বাস্তবায়ন হলো না। পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা করার জন্য ৫৪ নির্বাচন হলো পূর্ব বাংলা থেকে শেরে-বাংলার কৃষক শ্রমিক পার্টি, মাওলানা ভাসানীর ন্যাপ, সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগ মিলে যুক্ত ফ্রন্ট গঠিত হলো। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লিগের পূর্ব বাংলায় ভরাডুবি হলো, যুক্তফ্রন্ট সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করলো কিন্তু পশ্চিমাদের সরজন্ত্র শেষ হলো না। যুক্ত ফ্রন্টের সরকার ভেঙে গেলে মুসলিম লিগের সরকার গঠিত হল, সংখ্যা লঘু সরকার। এদিকে ভাষা সংস্কৃতির দাবী, পূর্ব বাংলার ন্যায্য হিস্যার দাবীতে, মাতৃভাষার দাবীতে আন্দোলন চলতেই থাকলো। অবশেষে মুসলিম লিগের পতনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু হল আওয়ামী লীগের জয় জয়কার। ১৯৬৬ সালে ৬ দফার আন্দোলন সাথে যোগ হল ছাত্র লীগের ১১ দফা ক্রমান্বয়ে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার হলো ১৯৬৮ তে আগর তলা সরযন্ত্র মামালা ফিল্ড মার্শাল আয়ূব খান বঙ্গবন্ধু সহ সাবেক ও বর্তমান বাঙ্গালী সেনা বিমান বাহিনীর অনেক অফিসার কে রাষ্টদ্রহ মামলায় গ্রেফতার করে কোর্ট মার্সালে বিচার শুরু করলো। এদিকে বঙ্গবন্ধু সহ সকল গ্রেফতার কৃত নেতাদের মুক্তির আন্দোলন সারা বাংলয় ছড়িয়ে গেলো, মহীলা আওয়ামী লীগ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতী মানুষ, বামপন্থী জোট সবাই দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুললো, আন্দোলন গ্রামে, গঞ্জে, ছড়িয়ে পরলো। এসময় জেল খানায় সার্জন্ট জহুরুল হক গুলিবদ্ধ হয়ে নিহত হয়, তেজগায়ে মিছিলে বেপরোয়া গুলি চালালে মনুমিয়া নামে এক শ্রমিক নেতা নিহত ও অনেকে আহত হয়। অবশেষে আয়ূব খান দুর্বার আন্দোলনের মূখে প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটাধিকার মেনে নিয়ে। আগর তলা মামলার সকল আসামীদের খালাস দিয়ে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ১৯৭০ এর ডিসেম্বরে নির্বাচনের দিন ঠিক হয়। কিন্তু নভেম্বরের ভয়াল ঘুর্নিঝরে ও বন্যায় দক্ষিণ অঞ্চলে ৫ থেকে ৬ লক্ষ মানুষ মারা যায় চট্টগ্রাম, বরিশাল খুলনা জেলার লক্ষ লক্ষ লোক গৃহহীন, সম্বলহীন হয়ে পরে। খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে লোক মারা যেতে লাগলো, তখন আওয়ামী লীগের মাধ্যমে একটি সেচ্ছাসেবী ত্রান কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তেমন কোনো সাহায্য সহযোগিতা না করায় মানুষ সরকারের উপর খেপে যায় এবং মাওলানা ভাসানীর ন্যাপ বন্যা ও ঘুর্নিঝরের কারনে নির্বাচনে বর্জন করায়। সারা বাংলার জনগন একচ্যাটিয়া আওয়ামী লীগে ভোট দেয় পশ্চিম পাকিস্তানে ওয়ালী খানের পুত্র গাফফার খানের ন্যাপ ৬ টি আসন পায়, পাকিস্তান পিপলস পার্টি পঃ পাকিস্তানে ৮০টি আসনে জয়ী হয়, শুরু হয় মুসলিম লীগের চুরান্ত ভরাডুবি। এহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য আলোচনা শুরু করলে ভুট্টো পূর্ব পাকিস্তানে আলোচনা বর্জন করে, পাঞ্জাব ও সিন্ধে তুমুল আন্দোলনের হুমকি দিয়ে আওয়ামীলীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্বিত করে। চলতে থাকে আলোচনা অবশেষে ভুট্টো পূর্ব পাকিস্তানে এহিয়া খানের সাথে আলোচনায় বসে, ভুট্টো পাকিস্তানের প্রসিডেন্টের পদ দাবী করে বসেন, আওয়ামী লীগ আগে পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সংসদ অধিবেশন পরে প্রেসিডেন্ট প্রধান মন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ ঠিক করার দাবী জানায়। যুগপৎ আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র, পিপলস পার্টি, মুসলি লীগের সাথে আলোচনা দীর্ঘায়ীত করেন অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে বিপুল পরিমান অস্ত্র সমাবেশ শুরু করে। শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যার্থ হলে ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খান রাতের অন্ধকারে ঢাকা থেকে পালিয়ে যায়। পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়া আলোচনার ব্যার্থতার জন্য ইয়াহিয়া খান ও ভুট্টো উভয়ই আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করে ভুট্টো বলেন পূর্ব পাকিস্তানে সংসদ বসলে সংসদ হবে কশাইখানা। এদিকে ছাত্র, জনতা, আওয়ামী লীগের আন্দোলন চলতে থাকে। আন্দোলনে ছাত্র, শিক্ষক, নারী, পুরুষ, কৃষক, শ্রমিক সব একাকার হয়ে যায়। ছাত্রলীগ, ডাকসুর নেতারা সকল দফা বাদ দিয়ে এক দফার আন্দোলন শুরু করে দেয়। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু জন সমাবেস ডাকেন সেই সমাবেশ বঙ্গবন্ধু ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষনে সকল বিষয় উল্লেখ করে বাংগালীর মুক্তি সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরার আহবান জানান। তিনি বলেন আমাদের সংগ্রাম বাঙ্গালীর মুক্তির সংগ্রাম, আমাদের সংগ্রাম স্বাধীনতা সংগ্রাম। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ডাকসু ২২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে ডাকসুর অফিসের সামনে বাংলাদেশের মানচিত্র সহ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। ২৩ সে মার্চ ছাত্র লীগ পল্টনের জন সভায়, স্বাধীন বাংলার রূপ রেখার ঘোষণা পাট করেন, বঙ্গবন্ধু সেই মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা ভাসানী তার পল্টনের জনসমাবেশে পঃ পাকিস্তানকে ওয়ালাইকুম আসসালাম বলে দেন।

চট্টগ্রামে বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করতে নির্দেশ দিলে বাংগালী জিওসি ব্রিগেডিয়ার মজুমদার দেশে কোনো যুদ্ধ অবস্থা নাই বলে অস্ত্র খালাসে বিলম্ব করেন। ঢাকা থেকে তখন হেলিকপ্টারে করে ব্রিগেডির জানজুয়াকে নিয়া জিওসির দায়ীত্ব দিয়ে মজুমদারকে ঢাকায় আনা হয় ও পরে পঃ পাকিস্তানে কোর্টমার্শালে তাকে টরচার ও বিচার করা হয়। ২৬ তারিখ রাত্রে বেঙ্গল রেজিমেন্টকে আন আর্মড করার নির্দেশ দিলে তারা অস্ত্র সারেন্ডার্ড করতে অশ্বিকার করলে সেখানে অবাংগালীরা বাংগালী সৈনিকদের উপর গুলি চালায় ও বহু বাংগালী সৈনিক মারা যায় বাকিরা অস্ত্র সহ পালিয়ে ক্যাপ্টেন রফিকের নেতৃত্বে একত্র হয় শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৭ তারিখ ১১টার দিকে সকালে জিয়া উর রহমান কিছু অবাঙ্গালী সৈন্যদের নিয়ে পতেঙ্গার পথের বেরিকেট সরানোর সময় ডাঃ ক্যাপ্টন জাফর তাকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিডিআর, বাংগালী সৈন্যদের সমন্বয়ে জিয়াউর রহমান সহ অন্যান্ন সৈনিক ও আওয়ামী লীগ নেতারা সবাই কালুর ঘাটে একত্র হয়ে বেতারে বঙ্গবন্ধুর ঘোষনা পাঠ করেন ও বেতার কেন্দ্রের একটি ছোট ট্রানসফরমার খুলে জীপ গাড়িতে করে নিয়ে নদীর অপর পারে অবস্থান গ্রহন করেন। তখনও ক্যাপ্টেন রফিকের নেতৃত্বে বিডিআর সৈনিকদের মাধ্যমে শহরের প্রতিরোধ যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন।

বেলুচিস্তানের ন্যাপ ও আওয়ামী লীগের সাথে এক জোটে কাজ করার অঙ্গিকার করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৮৮ টি আসন পায়। সমগ্র পুর্ব পাকিস্তানে পিডিপির নুরুল আমিন ১টি এবং স্বতন্ত্র চাকমা রাজা ত্রীদেভ রায় ১ একটি আসনে জয়ী হয়।
পাকিস্তান পিপলস পার্টি পঃ পাকিস্তানে ৮০টি আসনে জয়ী হয়, শুরু হয় মুসলিম লীগের চুরান্ত ভরাডুবি। এহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য আলোচনা শুরু করলে ভুট্টো পূর্ব পাকিস্তানে আলোচনা বর্জন করে, পাঞ্জাব ও সিন্ধে তুমুল আন্দোলনের হুমকি দিয়ে আওয়ামীলীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্বিত করে। চলতে থাকে আলোচনা অবশেষে ভুট্টো পূর্ব পাকিস্তানে এহিয়া খানের সাথে আলোচনায় বসে, ভুট্টো পাকিস্তানের প্রসিডেন্টের পদ দাবী করে বসেন, আওয়ামী লীগ আগে পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সংসদ অধিবেশন পরে প্রেসিডেন্ট প্রধান মন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ ঠিক করার দাবী ও ৬ দফার ভিত্তিতে সংবিধান রচনার দাবীতে অনর থাকে। যুগপৎ আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র, পিপলস পার্টি, ন্যাপ, মুসলি লীগের সাথে আলোচনা দীর্ঘায়ীত করেন অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে বিপুল পরিমান অস্ত্র সমাবেশ শুরু করে ইয়াহিয়া সরকার। শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যার্থ হলে ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খান রাতের অন্ধকারে ঢাকা থেকে পালিয়ে যায়। পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়া আলোচনার ব্যার্থতার জন্য ইয়াহিয়া খান ও ভুট্টো উভয়ই আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করে ভুট্টো বলেন পূর্ব পাকিস্তানে সংসদ বসলে সংসদ হবে কশাইখানা। এদিকে ছাত্র, জনতা, আওয়ামী লীগের আন্দোলন চলতে থাকে। আন্দোলনে ছাত্র, শিক্ষক, নারী, পুরুষ, কৃষক, শ্রমিক সব একাকার হয়ে যায়। ছাত্রলীগ, ডাকসুর নেতারা সকল দফা বাদ দিয়ে এক দফার আন্দোলন শুরু করে দেয়। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু জন সমাবেস ডাকেন সেই সমাবেশ বঙ্গবন্ধু ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষনে সকল বিষয় উল্লেখ করে বাংগালীর মুক্তি সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরার আহবান জানান। তিনি বলেন এবারের সংগ্রাম আমার মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতা সংগ্রাম। মার্চের আন্দোলনের এক পর্যায়ে ডাকসু ২২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে বাংলাদেশের মানচিত্র সহ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। ২৩ সে মার্চ ছাত্র লীগ পল্টনের জন সভায়, স্বাধীন বাংলার রূপ রেখার ঘোষণা পাট করেন, বঙ্গবন্ধু সেই মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা ভাসানী তার পল্টনের জনসমাবেশে পঃ পাকিস্তানকে বিদায়ী সালাম জানিয়ে দেন। এদিকে ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি, গভর্নর মোনেম খানের স্থানে টিক্কা খানকে প্রথমে পূর্বাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার, পরে গভর্নর করেন। লেফটেন্যান্ট নিয়াজিকে পরে পূর্ব পাকিস্তানের কমান্ডার ও রাও ফরমান আলীকে গভর্নরের পিএসও নিযুক্ত করেন। ২৫শে মার্চ রাতে শুরু হয় অপারেশন সার্চলাইট, রাতের অন্ধকারে তেজগাঁও থেকে গ্যান্ডারিয়া রেললাইন বস্তিতে ঘুমন্ত নিরীহ মানুষের উপর গুলি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা বিডিআর ক্যাম্প, ইউনিভার্সিটির হল গুলোতে নির্বিচারে মেশিন গানের গুলি চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করাহয়। ঢাকার বাহিরে সেনা ছাউনি ও ক্যাম্পগুলোতে বাংগালী সৈনিকদের আন আর্মড করা শুরু করে দেয় এরিমধ্য বিভাগীয় শহর গুলিতে রাতে কারফিউ দিয়ে শ্রমিক বস্তিতে আক্রমণ করে নেতাদের ধরপাকর ও হত্যা শুরু করে। ঐদিনই পূর্ব পাকিস্তানের অস্তিত্বে শেষ পেরেক ঠুকে টিক্কা, নিয়জি, রাও ফরমান আলী। বঙ্গবন্ধু রাত ১২.৩০ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণা পিলখানা, ও চট্টগ্রাম বিডিআর হেড কোয়ার্টারে ওয়ারলেস ষ্টেশনে পাঠিয়ে দেন ও সকল টেলিগ্রাম অফিসে পাঠিয়ে দিতে নির্দেশ দেন সকল টেলিগ্রাম অফিসথেকে ২৬ মার্চ সকাল ১১ টার দিকে ঐ ম্যাসেজ আওয়ামী লীগ নেতারা নিয়ে তা এলাকায় এলাকায় প্রচার করতে থাকে। এরই মধ্যে মফস্বলের বিভিন্ন থানায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী রাত ১.৩০ মিঃ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।

বিদায়ী সালাম জানিয়ে দেন। এদিকে ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি, গভর্নর মোনেম খানের স্থানে টিক্কা খানকে প্রথমে পূর্বাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার, পরে গভর্নর করেন। লেফটেন্যান্ট নিয়াজিকে পরে পূর্ব পাকিস্তানের কমানডার ও রাও ফরমান আলীকে গভর্নরের পিএসও নিযুক্ত করেন। ২৫শে মার্চ রাতে শুরু হয় অপারেশন সার্চলাইট, রাতের অন্ধকারে তেজগাঁও থেকে গ্যান্ডারিয়া রেললাইন বস্তিতে ঘুমন্ত নিরীহ মানুষের উপর গুলি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা বিডিআর ক্যাম্প, ইউনিভার্সিটির হল গুলোতে গুলি চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করাহয়। ঢাকার বাহিরে সেনা ক্যাম্পগুলোতে বাংগালী সৈনিকদের আন আর্মড করা শুরু করে দেয় এরিমধ্য বিভাগীয় শহর গুলিতে রাতে কারফিউ দিয়ে শ্রমিক বস্তিতে আক্রমণ করে নেতাদের ধরপাকর ও হত্যা শুরু করে। ঐদিনই পূর্ব পাকিস্তানের অস্তিত্বে শেষ পেরেক ঠুকে টিক্কা, নিয়জি, রাও ফরমান আলী। বঙ্গবন্ধু রাত ১২.৩০ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণা পিলখানা, ও চট্টগ্রাম বিডিআর হেড কোয়ার্টার ওয়ারলেস ষ্টেশনে ও সকল টেলিগ্রাম অফিসে পাঠিয়ে দেন সকল টেলিগ্রাম অফিথেকে ২৬ মার্চ সকাল ১২ টার আগে ঐ ম্যাসেজ আওয়ামী লীগ নেতার নিয়ে তা এলাকায় এলাকায় প্রচার করতে থাকে। এরই মধ্যে মফস্বলের বিভিন্ন থানায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী রাত ১.৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।

এদিকে খুলনা, রাজশাহী, জশোর, কুমিল্লায় সর্বত্র পুলিশ লাইন ও বিডিআর থেকে আসা এবং অবসর প্রাপ্ত ও ছুটিতে থাকা সৈনিকদের সমন্বয়ে প্রথমে রাস্তায় বেরি কেট ও প্রতিরোধ মূলক বন্ধুক যুদ্ধ শুরু হয়, পরে মুক্তি বাহিনীর সংখিপ্ত ট্রেনিং দিয়ে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। অন্যদিকে ২৫ তারিখ অপরাহ্নে সকল আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যগন ঢাকা ছাড়েন। বিভিন্ন পথে তারা ভারতে একত্রিত হয়ে যুদ্ধ পরিচালানার ও ভারতীয় সহযোগিতার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দেখা করেন। ভারতে স্বরনার্থী শিবির খোলা হয়, পালিয়ে যাওয়া বাংগালী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের জন্য। শুরু হয় মুক্তি ফৌজ এর প্রশিক্ষন, বর্ডার যুদ্ধ, ভিতরে গেরিলা হামলা।
এভাবেই মুক্তি যুদ্ধ চলতে থাকলো। ১৭ই এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহের পুর বৈদ্যনাথতলায় গঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাসি সরকার যা মুজিবনগর সরকার সাথে সকল সেক্টরে রাজনৈতিক কমান্ড এই সরকার মুজিব নগর সরকার নামে খ্যাত। তাজ উদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রী ও সৈয়দ নজরুলল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি করে ৭জ জন মন্ত্রী, জেনাররেল ওসমানীকে প্রধাম সেনাপতি, বিমান বাহীনির এ আর খন্দকার ও কর্নেল আঃ রবকে মুক্তি বাহিনীর ডেপুটি চিফ করে সারা দেশকে ৯টি সেকটরে ভাগ করে ৯ জন মেজরকে ৯ টি সেক্টরের দায়ীত্ব দেয়া হয়। ফ্রান্সে প্রশিক্ষন রত ৭ জন বাংগালী পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে অপসন দিয়া জাহাজ ত্যাগ করে বাংলাদেশে আসলে নৌ কর্মকর্তা ও দেশের নৌ সেনা সহ ভালো সাতারুদের সমন্বয়ে একটি নৌ কামান্ডো গঠন করে ১০ নং সেক্টর ওপেন করে চট্টগ্রাম, চালনা সমুদ্র বন্দর ও নারায়ণগঞ্জে পাক বাহিনীর জাহাজের উপর আক্রমণ করার জন্য প্রেরন করা হয়। সেপ্টেম্বরের দিকে সেক্টর গুলি পুনর বিন্যাস করে ৩ জন সিনিয়র মেজরকে কর্নেল পদমর্যাদায় পদোন্নতি দিয়া ৩টি ব্রীগেড সৃষ্টি করে কর্নেল শফিউল্লাহ, কর্নেল জীয়া ও কর্নেল খালেদ মৌশারফ এর নেতৃত্বে এস ফোর্স, জেড ফোর্স, কে ফোর্স গঠন করে ময়মন সিংহ, কুমিল্ল, ঢাকার অদুরে মুন্সিগঞ্জ ও মনিক গঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার দখলের ত্রীমূখী দায়িত্ব দেয়া হয় এবং ব্রম্মনবারিয়া ফিলড আর্টিলারির মেজর তাহেরের নেতৃত্বে ১১ নং সেক্টর খোলা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে ২০০ থেকে ৩০০ নিয়মিত সৈন্য, সমান সংখক পুলিশ, বিডিআর, আনসার ও প্রশিক্ষন প্রাপ্ত মুক্তি যোদ্ধা ও গ্যারিলা সমন্বয়ে কমপক্ষে ১০ বারো হাজার মুক্তি বাহিনী নিয়ে এক একটি সেক্টর গঠন করে সম্মুখ সমরে জলে স্থলে যুদ্ধ চলতে থাকে শেশ দিকে রাশিয়া ও ভারতে উচ্চতর প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ছাত্রলীগ, যুব লীগ, সেচ্ছাসবক লীগের নেতৃত্বে মুজিব বাহিনীর সদস্যরা গেরিলা যুদ্ধে বিভিন্ন সেক্টরে যোগ দেয়। দেশ বিদেশের এম্বাসি ও মিশন সমুহে কর্মরত বাংগালী অফিসার কর্মচারী, অধ্যায়ন রত, কর্মরত চাকুরী জীবিদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ মিশন খোলা হয়৷ প্রবাসী সরকার ও মুক্তি যুদ্ধের খরচ বহন করা অস্ত্র, রসদ, খাদ্য সরবরাহ করার জন্য অর্থ সাহায্য, চেরিটি ফান্ড, মুক্তি যোদ্ধাদের সম্মানী, প্রবাসী সরকারের ব্যয় নির্বাহ, ভারত সরকারের সাহায্য, রাশিয়া ও ভারতের অস্ত্র ও আর্থিক সাহায্য, সরনার্থী ক্যাম্পে অন্য বস্ত্র, ভারি অস্ত্র, সেনা ও সরকারারের যুদ্ধ কালিন খরচের যোগান দেয়া হয়।
সরনারথী শিবিরগুলোতে জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য, ইউনিসেফ, কিউসো, অক্সফ্যাম, ইউ এন এইচ সি আর, আই এম ও, সেভ দি চিল্ড্রেন সহ বিশ্বের নামি দামি এনজিও, চার্চ, চেরিটির সহায়তায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এবং ভারত ও রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সাহায্য আর দেশের ভিতরে বিত্যবান, কৃষক, সাধরন মানুষের সাহায্যে মুক্তি যুদ্ধ পরিচালিত হয়। ডিসেম্বরের ৬ তারিখ ভুটান ও ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে বাংগালী ও ভারতীয় পাইলটদের সমন্বয়ে ঢাকা, নারায়ন গঞ্জ সহ পাকিস্তানি বিমান খাটি ও নৌ বন্দর অচল হয়ে যায়। সকল বর্ডারে ভারতীয় বাহিনীর হেভী অর্টিলারির কাভারিং ফায়ারের ভিতরে মুক্তি বাহিনীর সাথে পাক বাহিনীর সম্মুখ সমরে বিভিন্ন স্থানে পাক বাহিনীর পতন শুরু হয়। সীমান্ত এলাকা গুলি আগেই মুক্ত হয়। ডিসেম্বরে মুক্তি বাহিনী ও ভারতী বাহিনীর শারাশি আক্রমণে পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের দোশর রাজাকররা শেষ রক্ষায় ব্যার্থ হয়ে ১৪ তারিখে পরিকল্পিত বুদ্ধি জীবি হত্যা, বিভিন্ন স্থাপনা ধংশ, বাজার, ব্রীজ, কালভার্ট নষ্ট করা শুরু করে ১৫ তারিখ সকল সেনাদের ক্যান্টনমেন্টে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দেয় লেঃ জেনারেল নিয়াজি ১৬ তারিখে পাকবাহিনী মিত্রবাহীনির কাছে আত্মসমর্পণ করে। রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ দলিল স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সত্রু মুক্ত হয়। তাই ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস। এই যুদ্ধে মুক্তি যোদ্ধা সহ ৩০ লক্ষ্য লোক শহিদ হয় বহু মায়ের কোল খালি হয়, সন্তান পিতৃহারা হয়, মা স্বামী হার হয়,২ লক্ষাধিক মা বোন ইজ্জত সম্ভ্রম হারায়, দের কোটি লোক সরনার্থী হয়, ২ কোটি লোক গৃহ, সম্পদ হারায়। বহু মা সন্তান হরা হয়, মা বোনরা স্বামী হারা হয়। পিতা পুত্র হারায়। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, গৌরী, ব্রম্মপুত্র বুড়ীগঙ্গা সহ সকল নদী দিয়া রক্ত আর লাশের শ্রত বয়ে যায়।

লেখকঃ আঃ রহমান শাহ,
৩১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, রাজধানী মোহাম্মদপুর থানা

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..