1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : খুলনা বিভাগ : খুলনা বিভাগ
  3. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  4. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  5. [email protected] : mahin : mahin khan
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

গুরুদাসপুরে ১০ গ্রামের মানুষের পারাপারে একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

এস,এম ইসাহক আলী রাজু
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৬৩ বার পঠিত

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

`কত এমপি ও চেয়ারম্যান এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেল একটি ব্রিজ নির্মাণের। এরই মধ্যে স্বাধীনের ৫০ বছর পেরিয়ে গেলোও আজও কথা রাখেনি কেউ। শুধু নির্বাচন এলেই এমপি ও চেয়ারম্যানরা  আত্রাই নদীতে একটি ব্রীজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়, পরে তা ভুলে যায় তারা।’ এভাবেই আক্ষেপ  করে কথাগুলো বলেন গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিলহরিবাড়ী গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল হান্নান। তার মতো হাজারো মানুষের দাবি  বিলহরিবাড়ী-সাবগাড়ী বাজার এলাকায় আত্রাই নদীতে একটি ব্রীজ নির্মাণের। বিয়াঘাট ইউনিয়নের ১০  টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজর মানুষের নদী পরাপারের একমাত্র ভরসা বর্ষা কালে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিলহরিবাড়ী-সাবগাড়ী বাজার সংলগ্ন আত্রাই নদীতে অনেক আগে সারা বছরই পানির প্রবাহ থাকত। তখন সারা বছরই নৌকায় করে নদী পারাপার হয় এলাকার মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন কৃষিপণ্য কৃষকরা তাদের ফসল বিক্রয়ের জন্য নৌকায় করে হাটবাজারগুলোতে যাতায়াত করে থাকেন। বর্ষা মৌসুমে অথৈয় পানিতে কানায় কানায় ভরে যায় আত্রাই নদী। তখন খেয়া পারাপারে আধা ঘন্টার স্থলে এক ঘন্টাও সময় লেগে যায়। হঠাৎ কোন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জীবন নির্ভর করে সময়ের উপর।  একটু দেরি হলেই রোগীর জীবন অসহ্য যন্ত্রনাসহ ওখানেই মৃত্যুও প্রহর গুনতে হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে  ইউনিয়নের ১০ টি গ্রামের লোকজন নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকোতে নদী পারাপার হন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিলহরিবাড়ী-সাবগাড়ী বাজার সংলগ্ন আত্রাই নদীতে খেয়া নৌকার পরিবর্তে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। বাঁশের সাঁকোটি উঁচু-নিচু হওয়ায় বয়স্ক মানুষ,স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। নিরুপায় হয়ে ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা ও মালামাল নিয়ে নদী পার হচ্ছেন এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে।

নদীর পূর্ব পাশের হরদমা, কারিগর পাড়া ও বিলহরি বাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক, সানোয়ার হোসেন, আশরাফুল ইসলামসহ অন্তত ১০ জন জানান, আত্রাই নদীতে ব্রীজ না থাকায় তাদের গ্রামে পাকা সড়ক হয়নি। নদীটি খরস্রোতা হওয়ায় খেয়া নৌকায় পারাপার হতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, ফসল পরিবহনসহ উপজেলা সদরে যেতে হয় আত্রাই নদী পার হয়ে। ভরা বর্ষায় খেয়া নৌকাডুবি এবং শুকনোয় বাঁশের সাঁকো পার হতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সাবগাড়ী বাজারের বাসিন্দা সাবেক অধ্যক্ষ  ওমর আলী জানান, ‘চলনবিল অধ্যুষিত এলাকাটি কৃষি প্রধান। সাবগাড়ী বাজার সংলগ্ন ঘাট হয়েই নদীর উত্তর পাশের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলহরিবাড়ী, কারিগরপাড়া, হরদমা এবং সিংড়ার কৃষ্ণনগর, কাউয়া  টিকিরি, পানলি ও ডাহিয়া গ্রাম। এখানকার মানুষ খেতের ফসল পারাপার এবং জেলা-উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে থাকেন। তাছাড়া পশ্চিম পাশের সাবগাড়ী, রাবার ড্যাম, যোগেন্দ্রনগর ও ভিটাপাড়া গ্রামের মানুষ ওই গ্রামগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং চলনবিলের ফসল নিয়ে আসে। এই নদীতে একটি ব্রীজ নির্মিত হলে নদী পারাপারে স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিশুসহ এলাকার মানুষের সেইভোগান্তি দূর হবে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী এই গুরুত্বপুর্ণ স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণের।

খেয়া নৌকার মাঝি সাদেক আলী বলেন, প্রায় ৩০ বছর যাবত নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করছি। এ জন্য বছরে সবার কাছ থেকে নির্দিষ্ট টাকা এবং ধান নিয়ে থাকি। বর্ষা মৌসুমে খেয়া থাকলেও শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করি। তবে এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণ হলে আমাদের কষ্ট অনেক লাঘব হবে এবং মানুষ উন্নত জীবনযাপন করতে পারবেন।

নাটোর-৪ আসনের সংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস বলেন, খুব দ্রুত এই আত্রাই নদীতে একটি ব্রীজ নির্মাণ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..