1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : খুলনা বিভাগ : খুলনা বিভাগ
  3. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  4. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  5. [email protected] : mahin : mahin khan
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

নরসিংদীতে স্বামীকে নেশা করতে বাধাঁ দেওয়ায় রেঞ্জ দিয়ে পিটিয়ে মুখ  থেত্থলে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১২৯ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদীতে নেশা করতে বাধাঁ দেওয়ায় সুবর্না আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর মাথা ও মুখে রেঞ্জ দিয়ে  এলোপাথারী পিটিয়ে মুখমন্ডল থেত্থলে দিয়ে এবং পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে পাষন্ড স্বামী। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নরসিংদীর শহরতলীর হাজিপুর ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাষন্ড স্বামী সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত সুবর্না আক্তার  হাজীপুর ইউনিয়নের বেঙ্গল এলাকার  রফিকুল ইসলামের মেয়ে। গ্রেফতারকৃত সোহেল মিয়া স্থানীয় বাজারে হলুদ মরিচ’র দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো। ইয়াদুল নামে  তাদের ৬ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে হাজীপুর ইউনিয়নের বেঙ্গল এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে সুবর্না আক্তারের সাথে সোহেল মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই যৌতুক ও নেশার টাকা জোগার করে দেওয়ার জন্য প্রায়শ: স্ত্রীকে নির্যাতন করতো রফিকুল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো। সুবর্ণা কয়েকবার তার বাবার কাছ থেকে টাকা এনে স্বামীকে দেয়। তারপরও আরো টাকা এনে দেওয়ার জন্য সুবর্ণাকে মারধোর করতো। এরই জের ধরে সুবর্না কয়েক দফায় বাপের বাড়ি চলে যায়।

সর্বশেষ গত শুক্রবার দুপুরে সুবর্নাকে তার বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে স্বামী সোহেল মিয়া।  কিন্তু দিন পার হতে না হতেই রাতে পুনরায় ঝগড়া শুরু হয়। রাত ১ টার দিকে স্বামী সোহেল মিয়াকে নেশা করতে বাধা দেয় স্ত্রী সুবর্না। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। পরে ঝগড়ার এক পর্যায়ে সোহেল মিয়া ধাতব পদার্থ রেঞ্জ দিয়ে তার স্ত্রী মাথায় ও মুখন্ডলে এলোপাথারী পিটাতে থাকে। এর এক পর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তার পেটে আঘাত করে। রাত ৩টার দিকে সুবর্নার বাড়িওয়ালা ইদ্দিছ মিয়ার স্ত্রী বের হয়ে সুবর্নাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।  পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার  মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ নিহতের স্বামী সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করে।

নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, জামাই ফূর্ব থেকেই নেশাগ্রস্ত ছিলো সেটা আমরা জানতাম না। তার এই নেশা করার কারণে দু’দিন পর পর সাংসারিক জীবনে তাদের ঝগড়া লেগেই থাকতো। পরে  আমরা মিলিয়ে দিতাম। বিয়ের পর থেকে এভাবেই চলছিলো । আমি গরিব মানুষ। পিঠা বিক্রি করে সংসার চালাই। এর মধ্যে যতটুকু সম্ভব টাকা দিয়ে জামাইয়ের চাহিদা মিটাতাম। কিন্তু সব সময় পেরে উঠতে পারতাম না। তাই বলে সে আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলবে। আমি তার বিচার দাবী করছি।

সুবর্নার মামা আলামিন বলেন, সোহেল প্রতিদিনই নেশা করতো। সে ফার্মেসি থেকে বিভিন্ন ঔষধের মাধ্যমে নেশা করতো। আর নেশা করেই আমার ভাগনিকে মারধোর করতো। অনেকবার তাকে বুঝিয়ে ভাগনিকে সংসারে পাঠিয়েছি। তারপর ও তার অত্যাচার কমেনি। এমন নির্মমভাবে রেঞ্জ দিয়ে পিঠিয়ে পুরো মুখ থেতলে দিয়েছে। ৬ মাসের দুধের শিশুটা মাকে ছাড়া কীভাবে থাকবে? আমরা সোহেলের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি ফাসিঁ দাবী করছি।

নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যের কারন জানতে অনুসন্ধান চলছে। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল। স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে বনিবনা হতো না। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..