1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : খুলনা বিভাগ : খুলনা বিভাগ
  3. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  4. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  5. [email protected] : mahin : mahin khan
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

বিয়ে করতে না পেরে পুরানো প্রেমিকা হত্যা করেছে মাইনুলকে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৩৭১ বার পঠিত

পলাশের ঘোড়াশালে উদ্ধারকৃত গলাকাটা লাশের হত্যার রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনায় সামাজিক অবক্ষয় চিত্র ফুটে উঠছে। এবার নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল বাজারে খুন হওয়া মাইনুল হত্যার রহস্য খুঁজতে গিয়ে পুলিশের সামনে  চলে আসে এমনই এক চাঞ্চল্যকর সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনা। শনিবার সন্ধ্যায় ঘোড়াশাল বাজারের ডেন্টাল হাসপাতালের ডা. শিহাবুল হকের চেম্বার  থেকে উদ্ধার হওয়া মাইনুল হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে।

সেই লক্ষেই  রবিবার  (১৩ ফেব্রুয়ারী) পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্দেশনায় এসআই মোঃ ইছমাইল হোসেন ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় মাইনুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য নিহত মাইনুলের সহকারী পাশ্ববর্তী গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার  রাণীগঞ্জ গ্রামের মৃত এমরান হোসেন এর মেয়ে ইসরাত জাহান মীম (১৯) কে গ্রেফতার করে। তাকে  পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের খিলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী তার নানার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করার পর হত্যার রহস্য উদঘাটনে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে।

মাইনুলের পুরনো প্রেমিকা ইসরাত জাহান মীম। সে তার নিজ হাতেই  প্রেমিক মাইনুলকে গলাকেটে হত্যা করেছে বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে  স্বীকার করে সে।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মাইনুল হত্যাকান্ডে তার পুরানো প্রেমিকা মীমের সম্পৃক্ততা  প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ নৃশংস হত্যাকান্ড প্রেমিকা মীমই ঘটিয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাাবাদে এ কথা স্বীকার করেছে মীম।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত মীমের তথ্য অনুযায়ী, মীম ও মীর স্কুল জীবন থেকেই একে অপরের পরিচিত। দু’জন স্থানীয় ঘোড়াশাল মুসা বিন হাকিম কলেজে একসঙ্গে লেখা-পড়া করতেন। একসময় দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন পর তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। গত বছরের মাঝামাঝিতে অন্য আরেকটি ছেলের সাথে মীমের  বিয়ে হয়।   তিন মাস পর সে বিয়ে ভেঙ্গেও যায়। এরপর পুরোনো প্রেমিক মাইনুলের সাথে  মীমের নতুন করে আবারও প্রেমের সম্পর্ক দানা বাধতে শুরু করে। । কিন্তু এরই মাঝে শ্রাবন্তী নামে এক মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মাইনুল। অনেকটা গোপনেই একই সঙ্গে দু’জনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যায়  ভিকটিম মাইনুল। এরই মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারী মাইনুল  শ্রাবন্তীকে বিয়ে করে তার বাড়ীতে এনে তোলে। নিজ বাসায় দাম্পত্য জীবন শুরু করে।   প্রেমিক  মাইনুল হক শ্রাবন্তী নামে অন্য  আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি প্রেমিকা ইসরাত জাহান মীম।  আর তা মেনে নিতে না পেরেই মাইনুলকে  তাদের কর্মস্থলে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।

উল্লেখ্য নিহত মাইনুল হক ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামের মৃত মীর আব্দুল ফেলুর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারী) সে দুপুরের খাবারদাবার শেষে বাড়ি থেকে ঘোড়াশাল বাজারে আসার কথা বলে বের হয়। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরেনি। তারপর থেকে মাইনুলের মুঠো ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। একপর্যায়ে মাইনুলের কোনো খোঁজ-খবর না পেয়ে মাইনুলের স্ত্রী শ্রাবন্তী আক্তার পলাশ থানায় একটি জিডি করেন। উক্ত জিডিটি সামনে রেখে থানা পুলিশ তদন্ত নামেন।

মাইনুল হকের কল লোকেশনে জানতে পারা যায় তার শেষ অবস্থান ঘোড়াশাল বাজার। গত শনিবার বিকালে ডেন্টাল হাসপাতালের ডাক্তার শিহাবুল হক এসে চেম্বার খুলতেই দেখতে পায় ভিতরে গলাকাটা অবস্থায় নিহত মাইনুল হক পড়ে আছেন। এরপর স্থানীয় পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..