1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : খুলনা বিভাগ : খুলনা বিভাগ
  3. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  4. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  5. [email protected] : mahin : mahin khan
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

দুর্নীতির অপর নাম নরসিংদীর করিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২২
  • ৩৬৬ বার পঠিত

নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। অফিস সহায়ক (এলএমএস) কাদির মিয়া টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না। ভূমি সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। আর এতে করে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের হয়রানি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস সহায়ক তার অসৎপথে উপার্জিত টাকা দিয়ে গড়ে তুলেছে তিনতলা বিশিষ্ট বৃহৎ অট্টালিকা।

সরেজমিনে গিয়ে করিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঢুকতেই চোখে পড়ে অফিস সহায়ক কাদির মিয়ার টেবিলটি। তাকে ঘিরে টেবিলের চারপাশে জড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেবা গ্রহীতারা। সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির পর্চা (খসড়া) তোলা থেকে শুরু করে ভূমি সংক্রান্ত সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিক ভাবে টাকা নিচ্ছেন অফিস সহায়ক কাদির। তিনি গ্রাহকদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে টাকার বিনিময় ছাড়া কোন ফাইলই নাড়ে না। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোন কাজ আদায় করা যায় না। ওই ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (এলএমএস) কাদির গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে আরও টাকা দাবি করাসহ বিভিন্ন ভাবে গ্রাহকদের হয়রারি করছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন ভূমি কর্মকর্তাদের অগোচরে মাঠ পর্যায়ে করিমপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের অফিস সহায়ক কাদির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে ভূমি সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন বলে দাবি ভূক্তভোগীদের।

করিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসা এক গ্রাহক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, এই অফিসের নায়েব সাব কোন কিছুই না, তিনি নামেমাত্র নায়েব, তার সকল দায়িত্ব পালন করেন কাদির। কাদিরই জায়গা সম্পত্তির নামজারি করে থাকেন। আমার জায়গা নামজারির জন্য কাদির আমার নিকট ২০,০০০/= টাকা দাবী করে। পরে আমি নামজারির জন্য তাকে নগদ ২০,০০০/= (বিশ হাজার) টাকা দেই। আজ ৪/৫ মাস হয়ে গেলেও সে আমার জায়গার নামজারি করে দিচ্ছে না। তাকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্বেও সে আজ না কাল, কাল না পরশু বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন আর আমাকে ঘুরাচ্ছেন। শুধু আমি না আমার মত অনেকেই টাকা দিয়ে ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখানে সেবা নিতে আসা ৮০ শতাংশ লোকই তার দ্বারা চরম হয়রানির শিকার। তার দাবিকৃত উৎকোচ না দিলে সেবা গ্রহীতারা পান না তাদের কাঙ্খিত সেবা।

কে এই কাদির? কাদিরের পরিচয় জানতে সদ্য বিদায়ী করিমপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সোহরাবের মুঠোফোনে কল দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাদির করিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহায়ক বা (এলএমএস)। অফিস সহায়ক বা তার দ্বায়িত্ব হচ্ছে অফিস গুচ্ছিয়ে রাখা। নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায় করা তার কাজ না। এগুলো নায়েব সাহেবের কাজ। আমার জানার বাকি নাই। আমি করিমপুর থাকাকালে তার বিরুদ্ধে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের অনেক অভিযোগ শুনতে শুনতে আমার কান জ্বালা পালা হয়ে গেছে। লোকজন তাকে প্রায়ই খোঁজ করতো। পরে ঐসব লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারি সে (কাদির) নামজারির কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতো। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নামজারি করে দিতো।

তিনি আরও বলেন, তার মূল কাজ হচ্ছে অফিসের ফাইল বের করে দেওয়া, অফিস পরিস্কার রাখা এবং বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংকে যাওয়া। আমার সময়ে আমি যতটুকু পেরেছি ভুক্তভোগীদের সমস্যা সমাধান করে দিয়েছি।
এ বিষয়ে সদ্যযোগদানকারী ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সবেমাত্র ৪/৫ দিন হয় অফিসে যোগদান করলাম। এবিষয়ে আমি তেমন কিছুই জানিনা। অফিসের সামনে সিটিজেন চার্টার ও করিমপুর ভূমি অফিসের সাইনবোর্ড কেন নাই তা জানতে চাইলে অফিস সহায়ক কাদিরই ভাল জানেন বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে কাদিরের খোঁজে তার নিজ এলাকার নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদিয়া গিয়ে দেখা যায়, ঘোড়াদিয়া পূর্বপাড়া (বায়তুল নূর জামে মসজিদ) এর পাশে ৬ তলা ভিত্তির উপর তিনতলা বিশিষ্ট এক বৃহৎ অট্টালিকা গড়ে তুলছেন তিনি।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এন্তাজ উদ্দিন জানান, কাদির মিয়া এলাকায় কাদির মোক্তার নামে পরিচিত। তিনি করিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি করেন। বছর খানেক আগে কাদির এই বাড়িটি তৈরি করেছেন। এর আগে এখানে টিনশেড ঘর ছিলো। কাদিরের তিন মেয়ে এক ছেলে। ছোট ছেলে কয়েক বছর ধরে প্রবাসে থাকে বলেও জানান তিনি।
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী মোর্শেদ এর কাছ থেকে অফিস সহায়ক কাদিরের দুর্নীতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এব্যাপারে আমার নিকট কোন ধরনের তথ্য বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। তাছাড়া ইতিপূর্বে আমাকে তার ব্যাপারে কেউ অবগত করেন নি, আপনার কাছ থেকে প্রথম শুনলাম। কাদিরের দুর্নীতির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

নরসিংদী সদর ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) আমিনুল ইসলামের কাছে কাদিরের দুর্নীতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জরুরি একটি সভায় রয়েছেন বলে ফোন কেটে দেন।

এব্যাপারে কাদিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে করিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (এলএমএস) পদে যোগদান করে অদ্যবধি পর্যন্ত ওই অফিসেই কর্মরত রয়েছি। আমাকে ওই অফিস থেকে বিদায় করতে একটি কুচক্রী মহল উঠে পড়ে লেগেছে। তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ভূমি সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে বাড়ি করার ব্যাপারে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত রয়েছে। তার উপার্জনের অর্থ দিয়েই বাড়ি বানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..