1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  3. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  4. [email protected] : mahin : mahin khan
শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

রায়পুরায় জনবল সংকট ও দায়িত্ব অবহেলায় মুখ থুবড়ে পড়েছে মা ও শিশুর চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম

মো. মোস্তফা খান, নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২
  • ১১০ বার পঠিত

নরসিংদীর রায়পুরায় জনবল সংকট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সেবার দরজায় প্রায়ই ঝুলছে তালা। নির্দিষ্ট সময়ের ২থেকে ৩ঘন্টা, এমনকি ৪ঘন্টা পরেও অর্থ্যাৎ দুপুর ১২টা-১টার পরে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগ সেবা গ্রহীতাদের। দায়িত্বশীল এসব চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতার কারণে ভেস্তে যেতে চলেছে সরকারের শতভাগ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম। সরকারী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রায়পুরা উপজেলার ২৪ ইউনিয়নের মা ও শিশু চিকিৎসা সেবা গ্রহীতারা। আর এসবের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জানাযায়, ২৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত রায়পুরা উপজেলা। এ উপজেলায় ৭লক্ষাধিক লোকের বসবাস। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধিন এ উপজেলায় ২৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৯টিতে রয়েছে তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। মা ও শিশুর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ভিজিটর, একজন ফার্মাস্টি, একজন আয়া ও একজন অফিস সহায়ক/নিরাপত্তা প্রহরী থাকার কথা। কিন্তু এ উপজেলায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ১৯টি ইউনিয়নের অন্তত ৬টিতেই দীর্ঘদিন ধরে জনবল না থাকায় কোন কার্যক্রম নেই। এদের ২/১ টাতে আয়া ও নিরাপত্তা প্রহরী থাকলেও তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ইউনিয়নগুলো হলো: চরমধুয়া, মুছাপুর, চর আড়ালিয়া, চরসুবুদ্ধি, চানপুর ও নিলক্ষা। এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো নিয়মিত ব্যবহার না করায় নস্ট হচ্ছে স্থাপনা সহ আসবাবপত্র ও প্রয়োজনী জিনিসপত্র।
বাকী ১৩টির মধ্যেও অধিকাংশটিতে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ভিজিটর, ফার্মাসিষ্ট, আয়া ও নিরাপত্তাপ্রহরীর পদ শুণ্য রয়েছে।

এছাড়াও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী কর্মকর্তার ৩টির মধ্যে ২টি, মেডিক্যাল অফিসারের ২টিই পদ শুণ্য আছে দীর্ঘ বছর ধরে। ফলে জনবল সংকট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব অবহেলায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এ উপজেলার ২৪ ইউনিয়নের মা ও শিশুর চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।

সরজমিনে গত (২০ জুন ২২ইং) সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় সেবা কেন্দ্রের গেইটে তালা ঝুলছে। বাহিরে সেবা নেওয়ার জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ১০/১২জন সেবা গ্রহীতা দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. হারুনুর রশিদের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে এগিয়ে আসেন সেবা নিতে আসা লোকজন। এসময় লিজা আক্তার, আকলিমা খাতুন সহ কয়েকজন জানান, এখন বাজে এগারোটা। আমরা এ সময় আরো কয়েকদিন এসে ডাক্তারের দেখা না পাওয়া ফিরে গেছি। আজও তো দেখছি হাসপাতালে তালা ঝুলছে।

গোলাপ মিয়া নামে ষাটোর্ধ একজন বলেন, ১২টা ১টার সময় এখানে ডাক্তার আসেন। প্রায়ই রোগীরা এসে সেবা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। তাছাড়া তিনি নিকটস্থ্য ভৈরবে কোন এক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে অফিসকালিন সময় প্যাকটিস করতে চলে যান বলেও জানান অনেকে।

এদিকে, ঘড়ির কাঁটা ঠিক দুপুর ১টা বাজার সাথে সাথে হঠাৎ তালা খুলে হাসপাতালে ডুকে অগোছালো টেবিল চেয়ার পরিষ্কার করতে লাগলেন উত্তরবাখরনগর উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. হারুনুর রশিদ। এরই মাঝে ৮ থেকে ১০ জন সেবা গ্রহীতা উপস্থিত। সেবা শেষে প্রতিবেদক এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঢাকা থেকে প্রশিক্ষন ভাতা নিয়ে ট্রেনে আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এসময় অন্যান্য দিনে দেরিতে অফিসে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন- রোগী আসতে দেরি হয় বিধায় সকালে নাস্তা করে কিছুটা সময় এদিক সেদিক হাটাহাটি করায় মাঝে মধ্যে দেরি হয়।
উত্তরবাখরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল্লাহ হাবিব বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি তাদের সাথে কথা বলবো এবং খোজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষতে অবহিত করবো।

পলাশতলী ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ভুইয়া বলেন, আমার এখানেও একই অবস্থা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরকে আমি খুজে পাইনি কখনো। বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে অবগত করেছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমানুর নাহার বলেন, শুণ্য পদসমূহ পূরণের জন্য সুপারিশ করা আছে এবং দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি নিয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

কথা হয় উপ-পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা নরসিংদীর অরবিন্দ্র দত্ত’র সাথে। তিনি বলেন, শুধু আমাদের এখানেই নই, সারাদেশেই জনবল সংকট রয়েছে। জনবল সংকটের কারনে কেন্দ্র ও কোয়াটারগুলো ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..