1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : খুলনা বিভাগ : খুলনা বিভাগ
  3. [email protected] : News : Badol Badol
  4. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  5. [email protected] : mahin : mahin khan
শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০২৩, ১২:২৫ অপরাহ্ন

প্রতিপক্ষের দেয়া আগুনে ফলের দোকানের কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০২৩
  • ৩৬ বার পঠিত

লক্ষন বর্মন, নরসিংদী প্রতিনিধি :

বাড়ির সীমানা প্রাচীর সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নরসিংদী শিবপুরের প্রতিপক্ষের দেয়া আগুনে তিনটি দোকান ঘর পুড়ে গেছে। শুক্রবার (১৭ মার্চ) ভোরে উপজেলার পুটিয়ার ত্রিমোহনী এলাকায় ফলের দোকানে প্রতিপক্ষের দেয়া আগুনে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এসময় ৩ টি দোকানে আগুন লেগে দোকানের ভিতরে থাকা খেজুর, আপেল, কমলালেবু ও পাশের দোকানের রিক্সার গ্যারেজের প্রায় ১০-১২ টি রিক্সা, ব্যাটারি পুড়ে যায়। এর পাশে থাকা ফিস ফিডের গোডাউনও পুড়ে যায়। পরে, শিবপুরের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।

শিবপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো: রায়হান বলেন, আজ রাত ০৩ টা ২৪ ঘটিকা সময় নরসিংদী সদর পুটিয়া মোড়ে ফলের গোডাউন ও ফিস ফিডের দোকানে আগুন লাগে। সংবাদ পেয়ে নরসিংদী ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ৩০ মিনিট কাজ করার পর আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ দেওয়া হয়। তবে, আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে বের করা হবে।

জানা যায়, শিবপুরে ত্রিমোহনীর এলাকার মামুন খন্দকার (৩৫) সাথে প্রতিবেশী মান্নান (৪৩) ও সুমনের সাথে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে গত বুধবার বিকালে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
আহতরা হলেন, মামুন খন্দকার (৩৫), রাবেয়া আক্তার (৩৫), কহিনুর (৪৫), ডলি আক্তার (৫০) ও সাদ্দাম হোসেন (৩০)।
পরে, শিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মামুন। অপর দিকে সুমনও মামুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।
পরের দিন বৃহস্প্রতিবার দুপুর ২.৩০ টার এস আই কামালের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় দফায় মহিলা সহ আরও ৪ জনকে পিটানো হয়। ওই দিন দিবাগত রাত ৩.৩০ টার দিকে দুটি ফলের দোকানে এবং ১ টি রিক্সার গ্যারেজের প্রায় ১০-১২ টি রিক্সার পুড়ে যায়। তাছাড়াও রিক্সার গ্যারেজের পাশে থাকা সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের খন্দকারের দোকানের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়।

ভুক্তভোগী মামুন বলেন, “গতকাল বৃহস্প্রতিবার আমার ভাতিজা নাজমুল দোকানে রাতে অবস্থান করছিলো। রাত ৩ টার দিকে আমার প্রতিপক্ষ সুমন ও মান্নানের নেতৃত্বে ১০-১২ জন আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রাত কোটির টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। সামনে রমজান মাস উপলক্ষে আমার ২টি দোকানে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি খেজুর, আপেল, কমলালেবু সহ বিভিন্ন ধরনের ফল স্টক করেছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় সব কিছু হারিয়ে আমি পথে বসে গিয়েছি। আমি চাই প্রশাসন তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আমাকে ক্ষতিপূরণসহ যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”

ভুক্তভোগীর ভাতিজা নাজমুল বলেন, “আমি রাতে দোকানের ভিতরে ছিলাম। বাহির থেকে দরজায় রশি দিয়ে বেশে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং খুব তাপ অনুভব করায় প্রথমে দরজা খোলার অনুভব করি কিন্তু খুলতে না পেরে অবস্থা ভয়াবহতা দেখে টিনের বেড়া ভেঙ্গে বের হয়ে সবাইকে খবর দেয়। পরে, পাশে থাকা পুকুর থেকে পানি দিয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক পরে ফায়ার সার্ভিসের লোককন সহ আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি।”

বক্তব্যে জানতে সুমন ও নাজমুলকে কল করা হলে তারা কল রিসিভ করেন নি এবং বাসাও তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

আহত রাবেয়া আক্তার (৩৫) বলেন, ” শিবপুরে থানার এস আই কামাল হোসেনের উপস্থিতি ও তার নির্দেশে আমার স্বামীর উপর হামলা করে সুমন, মান্নান ও তাদের লোকজন। এই পুলিশ কর্মকর্তার জন্য আমাকে আহত হতে হয়েছে। আমি এই পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত এস আই কামাল হোসেনকে বলেন, ” গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা ২ দিন তারা নিজেরা মারামারি করেন। আমি বৃহস্প্রতিবার বিকালে ৩ জন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওসি স্যারকে জানানো হলে তিনি ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যান। আমি কাউকে মারপিট করি নি এবং মারপিট করতে সাহায্যও করি নি। উল্টো ওই মহিলা ৩ জনকে পিটায়ছেন।”

পুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের খন্দকার বলেন, ” মামুনের সাথে প্রতিবেশী সুমন ও মান্নানের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মামুন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শুনেছি কিন্তু তাদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি হয় নি। রাতে আগুন দেয়ার ঘটনায় মামুনের পাশে থাকা আমারও ব্যবসায়িক দোকানও পুড়ে গেছে। এতে ৫-৬ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। আমি চাই প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওয়ায় যেন নিয়ে আসেন।”

এস আই কামালের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ” এ ধরনের ঘটনার ঘটার কথা শুনি নি। লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার বলেন, “বাড়ির প্রাচীর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পুঠিয়ার মামুন খন্দকার ও সুমনের ঝামেল চলছিলো। আমি গতকাল বৃহস্প্রতিবার ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। ফলের দোকানে আগুন দিয়েছেন কিনা জানি না, খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..