1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  3. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  4. [email protected] : mahin : mahin khan
মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

চারদফা দাবিতে কর্মবিরতীতে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৪৯ বার পঠিত

বেতন স্কেল ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী শনিবার (২২ ফেব্রæয়ারী) থেকে কর্মবিরতীতে যাচ্ছেন সারাদেশের স্বাস্থ্য সহকারীরা। ফলে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। যতক্ষন পর্যন্ত তাদের দাবির প্রজ্ঞাপন না হবে তক্ষন পর্যন্ত তাদের এ কর্মবিরতী অব্যাহত থাকবেন।

বুধবার (১৯ ফেব্রæয়ারী) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা মো. আকরাম খাঁন হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণাদেন বাংলাদেশ হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন।

তাদের দাবি গুলো হলো, টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন গ্রেড ১৬তম থেকে ১৪তমতে উন্নীতকরণ এবং ক্রমানুসারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের গ্রেড উন্নতি করন, স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদানের জন্য ৩বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ট্রেনিং চালুকরণসহ ট্রেনিং-পরবর্তী অটো ১১তম গ্রেডে আপগ্রেডেশন, প্রতি ৬ হাজার জনগোষ্টির জন্য ১ জন প্রতি পুরাতন ওয়ার্ডের জন্য ২ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দান এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের জব ডেসক্রিপশন তথ্য ব্যবস্থাপনার (এমআইএস) মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়েবসাইট নীড়ের পাতায় অন্তর্ভুক্তকরণ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয় মো. এনায়েত রাব্বি লিটন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, হেল্থ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয় শেখ রবিউল আলম খোকন, কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সদস্য আবুল ওয়ারেশ পাশা পলাশ, জাকারিয়া হোসেন, ফাহিম সিদ্দিকী, মোর্শেদুল আলম, জিয়াউল রহমান কাবুল ও ওয়াসিউদ্দিন আহম্মেদ রানাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রধান সমন্বয় মো. এনায়েত রাব্বি লিটন বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার অর্জনের পর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে সর্ব প্রথম থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। তৎকালিন সময়ে সাড়ে ৭ কোটি মানুষের সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে প্রতি ৪ হাজার জনগোষ্ঠির জন্য একজন স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সৃষ্ঠি করে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের শুভ সূচনা করেন।

৭০ দশকে পরীক্ষা মূলক ভাবে এ সকল স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়ে শুধুমাত্র বসন্ত ও ম্যালিরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব একক ভাবে তাদেরকে প্রদান করেন। শুধু মাত্র স্বাস্থ্য সহকারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠার ফলে দেশে থেকে বসন্ত নির্মূল এবং নিয়ন্ত্রিত হয়। বসন্ত ও ম্যালিরিয়া রোগ এই সফলতায় ১৯৭৯ সালে ৭ এপ্রিল চালু করা হয় স¤প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচী (ইপিআই)।
এ কর্মসূচীর আওতায় দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রের কর্মসূচি এককভাবে স্বাস্থ্য সহকারীদের উপর ন্যস্ত করা হয়। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সহকারীগন বর্তমানে ১০ মারাত্বক সংক্রামিত রোগ (শিশুদের য²া, পোলিও, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি, ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফুয়েঞ্জার, নিউমোনিয়া ও হাম-রুবেলা)’র টিকা প্রদান করেছেন।
এছাড়া ২০১৩ সালে ২৫ জানুয়ারী ৯ মাস থেকে ১৫ বছর কম বয়সের ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা সফল ভাবে প্রদান করে এ স্বাস্থ্য সহকারীরা। আর এ সব টিকা প্রদানের জন্য বাংলাদেশর ৬৪ জেলার নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী। এ জন্য তারা ভ্রমণ ভাতা বাবদ মাসে পান মাত্র ৬০০ টাকা। আর তাঁদের বেতন সর্বসাকল্যে ৯ হাজার ৭৪৫ টাকা।
একজন স্বাস্থ্য সহকারী টিকা প্রদানের পূর্বে সারা মাস সরকারী ছুটি ব্যতিত রৌদে-বৃষ্টিতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে মা ও শিশু রেজিস্টেশন করে টিকা প্রদান করেন। এই কর্মচারীদের জন্য বছরে একটি ছাতাও বরাদ্দ করা হয় না সরকারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে।
এদিকে ১৯৭৪ সালে ৪ হাজার জনগোষ্ঠির জন্য একজন স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সৃষ্ঠি হলেও বর্তমানে একজন স্বাস্থ্য সহকারী ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার জনগোষ্ঠি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অতছ সরকারী নিয়ম অনুসারে সে খানে ৬ থেকে ৭ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োজিত থাকার কথা।
প্রজাতন্ত্রের পদোন্নতি বিধি অনুযায়ী একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৩ থেকে ৭ বছর পরপর পদোন্নতি পান। কিন্তু একজন স্বাস্থ্য সহকারী ২০ বছরেও পদোন্নতি পেয়ে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে পারেন না। যদিও পদোন্নতি পান তালে স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে আরও কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে এমন সময় পদোন্নতি পান, যখন চাকরির বয়স বাকী থাকে মাত্র ৫ থেকে ৬ মাস। তবে পদোন্নতি হলেও বেতন বাড়ে না এক পয়সাও। উপরন্তু বদলি করা হয় অন্য জেলা, উপজেলায়।
তৃনমূল এ স্বাস্থ্য সহকারীদের কাজের অর্জনেই আজ বাংলাদেশ টিকাদানে বিশ্বের রোল মডেলে পরিনত হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছে ৭টি পুরষ্কার। তার মধ্যে

২০০৯ সালে ইমিউনাইজেশন কর্মসূচীর সফলতার জন্য গেøাবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন এন্ড ইমুনাইজেশন (গ্যাভী) কর্তৃক পেয়েছে পুরস্কার

২০১০ সালে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার দুই-তৃতীয়াংশ কমানোর জন্য জাতিসংঘের এমডিজি-৪ অ্যাওয়ার্ড

২০১১ সালে শিশুমৃত্যু-মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর জন্য সাউথ সাউথ পুরষ্কার

২০১২ সালের বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচীর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় (গ্যাভি) কর্তৃক টিকাদানকারী দেশের অ্যাওয়ার্ড

২০১৪ সালে দণি পূর্ব এশিয়ার শ্রেষ্ঠ টিকাদানকারী দেশের অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ

২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বাংলাদেশকে দিয়েছে পোলিও নির্মুলের সনদ

২০১৬ সালে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) কর্তৃক বাংলাদেশকে পোলিও নির্মূলে সাফল্যের স্বীকৃতির সনদ

২০১৬ সালে ধনুষ্টকার নির্মুলের সনদ অর্জন এবং সর্ব শেষ ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ৭৪তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে গেøাবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন এন্ড ইমুনাইজেশন (গ্যাভি) কর্তৃক শিশুদের টিকাদান কর্মসূচীর ব্যাপক সাফল্যের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পয়েছেন ভ্যাকসিন হিরো সম্মাননা ।
এ সম্মানগুলো একমাত্র স্বাস্থ্যদেরই অর্জন। কিন্তু এ তৃণমূল স্বাস্থ্য সহকারীদের কাজের বহু সাফল্যের পরও দীর্ঘদিন থেকে মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাড়ে ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহাকারীরা তাদের বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবি পূরণের লক্ষে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। সরকারে উচ্চ পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ তাদের এ দাবি ন্যায় ও যুক্তিক বলে প্রতিশ্রæতি থাকার সত্যেও তা আজও বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

২০১৬ সালে ২৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য সহাকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন ঢাকা বিভাগের এক সমাবেশে তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোঃ নাসিম এমপি মহোদয়ের তাদের দাবি যুক্তিক বলে ঘোষণা দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়ের আশ্বাস দিয়ে ছিলেন কিন্তু তার কোন প্রতিফল পাইনি স্বাস্থ্য সহকারী। যার ফলে ২০১৭ সালে ৩০ ডিসেম্বর উক্ত সংগঠনটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারীতে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রে স¤প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচী (ইপিআই) বন্ধ রেখে বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দাবিতে কর্মবিরতি পাল করেন।
এপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি মেনে নিলে তারা তাদের কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন। কিন্তু সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘোষণা দীর্ঘ দুই বছরের উপর অতিবাহীত হলেও বাস্তবায়নের আলো মুখ দেখতে পারেনি স্বাস্থ্য সহকারীরা।

এর আগেও বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকার কালিন স্বাস্থ্য সহাকারীদের এক মহাসমাবেশে স্বাস্থ্য সহকারীদের টেকনিক্যাল পদমর্যদার দাবি বাস্তবায়নে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তারও কোন প্রতিফল পাইনি, সে ঘোষিত দাবিই বাস্তবায় চাই স্বাস্থ্য সহকারীরা।
তাই বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবিতে আগামী ২২ ফেব্রæয়ারী হতে ইপিআই কার্যক্রম ও ২৯ ফ্রেরুয়ারী থেকে শুরু হওয়া হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বর্জনসহ স্বাস্থ্য পরিদর্শক,সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের সমন্বয়ে কর্মবিরতীতে যাচ্ছেন। যতক্ষন পর্যন্ত তাদের দাবির প্রজ্ঞাপন না হবে তক্ষন পর্যন্ত এ কর্মবিরতী অব্যাহত থাকবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..