1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  3. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  4. [email protected] : mahin : mahin khan
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য ভেঙ্গে দেয়াই হবে আবু হেনা মোরশেদ জামানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুন, ২০২০
  • ৩৩ বার পঠিত
আবু হেনা মোরশেদ জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) নতুন পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামানের জন্য নতুন দায়িত্বটি নিঃসন্দেহে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্যখাত বিশেষজ্ঞরা। কারণ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে অসাধু চক্রের চলমান দুর্নীতি, অনিয়মের দেয়াল ভাঙ্গার দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, আবু হেনা মোরশেদ জামানের মতো কর্মকর্তার পক্ষে এই কাজটি দুরূহ হবে না। কারণ অতীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বপালনকালে চৌকস মেধা ও দক্ষতা দিয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। যেখানেই দায়িত্ব নিয়ে গেছেন রেখেছেন বিচক্ষণতার ছাপ। সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন মাঠপ্রশাসনসহ সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে।

দেশের স্বাস্থ্যখাতের দুর্যোগ মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) নতুন পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছেন আবু হেনা মোরশেদ জামান। প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে একশ্রেণির অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য দূর করে সার্বিক কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বড় চ্যালেঞ্জ এখন তাঁর কাঁধে। প্রশাসন ক্যাডারের এই অতিরিক্ত সচিবকে নিয়োগ দেওয়ার পর নানা মহলের বিরোধিতাও প্রকাশ্যে এসেছে। তবে শেষতক কিছুই ধোপে টেকেনি। গত ১ জুন তিনি পরিচালকের আসনে বসেছেন। বুঝে নিয়েছেন দায়িত্ব। ওইদিন থেকেই শুরু হয়েছে তাঁর ‘মিশন’।

স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সিএমএসডি। দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য ওষুধ এবং সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও তারাই করে।

এসব কেনাকাটায় সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ বেশ পুরনো। বলতে গেলে কয়েক দশকের। সরকার বদল হলেও সিন্ডিকেটের হেরফের হয় না। ঘুরে ফিরে নামধাম বদলে পুরনোরাই ডালপালা ছড়িয়ে আছে সিএমএসডির রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কোনো এক দ্বৈব ক্ষমতাবলে রাজনৈতিক পালা বদলেও বহাল তবিয়তে আছে দেড় দশক আগের চক্রটি।

দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর দৃশ্যপটে আসে সিএমএসডির কেনাকাটায় নানা অনিয়ম। সবচেয়ে ভয়াবহ যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে চিকিৎসকদের রক্ষাকারী মাস্ক সরবরাহে বড় দুর্নীতি। মাস্কের মোড়কে এন৯৫ লেখা থাকলেও ভেতরে দেওয়া হয়েছে অতিসাধারণ মাস্ক। যা ভাইরাস ঠেকাতে অক্ষম তো বটেই স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে। আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসে এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয়। দৃষ্টি এড়ায় না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও। প্রকাশ্য ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে সিএমএসডির দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কী করে এসব মানহীন সরঞ্জাম হাসপাতালগুলো সরবরাহত করা হলো তার খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি করতে বলেন। সেই সঙ্গে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে সিএমএসডির নানা হাঁড়ির খবর। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে জেঁকে বসা সিন্ডিকেটের কথাও আলোচনায় আসে। এসব সমালোচনার মুখ বন্ধ করতে সরকার সিএমএসডির পরিচালক পদে পরিবর্তন আনে। দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে গত ২২ মে জনপ্রশাসনের এক আদেশে পদটিতে নিয়োগ দেওয়া হয় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানকে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

একই আদেশে সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ শহীদউল্লাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে দীর্ঘদিন সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়ে আসছিলেন।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের মেধাতালিকায় আবু হেনা মোরশেদ জামানের স্থান সর্বশীর্ষে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ছিলেন। এছাড়া ফরিদপুর ও নরসিংদীর জেলা প্রশাসক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে এই কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে প্রশংসা কুড়ান।

 

জোনাকি টেলিভিশন/এসএইচআর/০৭-০৬-২০ইং

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..