1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : খুলনা বিভাগ : খুলনা বিভাগ
  3. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  4. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  5. [email protected] : mahin : mahin khan
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

ব্যালট ছিনতাই, সীলমারা ও ভোট বর্জনসহ কঠোর নিরাপত্তায় নরসিংদীর দুই পৌরসভায়  নির্বাচন সম্পন্ন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৩৪ বার পঠিত

নরসিংদী পৌর নির্বাচনে ৪টি কেন্দ্র স্থগিত, মাধবদীতে মানিক পূণরায় মেয়র নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

উৎসব মূখর পরিবেশে চতুর্থ ধাপে কঠোর নিরাপত্তা থাকা সত্বেও ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে নরসিংদীর দুই পৌরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার ( ১৪ ফেব্রুয়ারী) মাধবদী পৌরসভায় ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন, নরসিংদী পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, সীলমারামারির  মধ্য দিয়ে নির্বাচন শেষ হয়। নির্বাচনে মাধবদী পৌরসভায় মেয়র পদে নৌকা প্রতিক নিয়ে মোশাররফ হোসেন মানিক বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়। অন্য নরসিংদীর পৌরসভার ৪ টি কেন্দ্র স্থগিত থাকা মেয়রসহ দুটি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও দুটি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে জয়-পরাজয় নিশ্চিত হয়নি।

নরসিংদী পৌরসভা

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সকালে নরসিংদী পৌরসভায় ভোট গ্রহন শুরু হয়। সকাল ৮টা থেকে ভোটারগণ স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয় এবং তারা সুন্দর পরিবেশে ভোট দেয়া শুরু করে। তবে সকাল সাড়ে ৮টায় আট নং ওয়ার্ডের ইউএমসি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত ৩টি কেন্দ্রে ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা, ভাংচুর, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও প্রকাশ্যে সীল মারার কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাটিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও সীলমারার অভিযোগ পাওয়া যায়। অপর দিকে ১নং ওয়ার্ডের বাসাইল কেন্দ্রে সরকারী দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপকভাবে ব্যালট পেপারে প্রকাশ্যে সীল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে দত্তপাড়া (বেপারী পাড়া) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে জোর ভোট প্রদানের। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৌকার সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাইল সমর্থকদের মারধোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করেন প্রার্থী এস এম কাইয়ুম।

বিভিন্ন অনিয়মের কারণে নরসিংদী পৌরসভার ৪টি কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করে বাকী কেন্দ্রগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থগিত কেন্দ্রগুলো হল ৮নং ওয়ার্ডের ইউএমসি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত ৩২নং ইউএমসি পুরাতন কলোনি এবং ব্রাহ্মনপাড়া অংশ নিয়ে গঠিত (পুরুষ ও মহিলা) কেন্দ্র, ৩৩নং পুরুষ কেন্দ্র, ৩৪নং উত্তর নাগরিয়াকান্দি মহিলা কেন্দ্র এবং ৪নং ওয়ার্ডের ১৭নং বৌয়াপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। এসকল কেন্দ্র সমূহে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ১৩৭।

৪টি কেন্দ্র স্থগিত রেখে নরসিংদী পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনে বেসরকারী ফলাফলে মেয়র পদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আমজাদ হোসেন বাচ্চু পেয়েছেন ১৮ হাজার ৫৪৬ ভোট, মোবাইল ফোন প্রতীকের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম কাইয়ুম পেয়েছেন ১৭ হাজার ৩৭০ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আসাদুল হক পেয়েছেন ১ হাজার ৭৭৮ ভোট এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের হারুনর রশীদ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৭৭ ভোট।

ভোটগ্রহন শেষে মোসলেহ উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে অস্থায়ীভাবে ফলাফল কেন্দ্র স্থাপন করে দিবাগত মধ্যরাতে বিভিন্ন প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী, সমর্থক, সাংবাদিক সহ জনাকীর্ন দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে নরসিংদী স্টেডিয়াম থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কমল কুমার ঘোষ। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুশফিকুর রহমান, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, শিবপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবীরুল ইসলাম খাঁন, নরসিংদী সদর এসি ল্যান্ড মোঃ শাহ আলম মিয়া, এলও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহরুখ খান,সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজীজ মাহমুদ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ।

বেসরকারী ফলাফলে ৭ টি সাধারণ ওয়ার্ডে ও একটি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে  নির্বাচিতরা হলেন- ১ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে চশমা প্রতিকে ৭৯৪৮ ভোট পেয়ে নিবাচিত হয়েছেন  রুমানা ফেরদৌস, তার নিকটতম  প্রতিদ্বন্ধি আনারস প্রতিক নিয়ে জয়ন্তী রানী দাস পেয়েছেন ৪৩৪৭ ভোট। ২ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একটি ভোট কেন্দ্র এবং ৩ নং ওয়ার্ডের ৩ টি ভোট কেন্দ্র স্থগিত থাকায়  জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়নি।

১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে টিউব লাইট প্রতিকের নূর মোহাম্মদ খন্দকার পারভেজ ২৬৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, নিকটতম টেবিল ল্যাম্প প্রতিকের কামাল মোল্লা পেয়েছেন ২৫৯০ ভোট।

২ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন ব্রীজ প্রতিকের মোঃ আজিজুর রহমান। প্রাপ্ত ভোট ২১১০, তার নিকটতম পানির বোতল প্রতিকের এ.কে.এম ফজলুল হক পেয়েছেন ১১২৬ ভোট

৩ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন উট পাখি প্রতিকে ৪৫৫৪ ভোট পেয়ে মোঃ দিদার হোসেন ফটু, তার নিকটতম ডালিম প্রতিকের মনিরুজ্জামান চৌধুরী ৮৬৬ ভোট ।

৪ নং ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রের  নির্বাচন স্থগিত থাকায় কাউকেই বিজয়ী ঘোষণা করা সম্ভব না হওয়ায় ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন উট পাখী  প্রতিকে ৩৪৩৯ ভোট পেয়ে মোঃ সাইফুল ইসলাম ভূইয়া, মোঃ সাইফুদ্দিন জিয়া ১৫১৮ ভোট পেয়ে নিকটতম অবস্থানে আছে।

৬ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন টেবিল ল্যাম্প প্রতিকের মোঃ মোজাম্মেল হক সরকার (২০৬৬ ভোট),নিকটতম মোঃ আব্দুল খালেক সিদ্দিকী (১৪৪৭ ভোট) ।

৭ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন উট পাখী প্রতিকের মোঃ জহিরুল ইসলাম (২৩৫০ ভোট),নিকটতম টেবিল ল্যাম্প প্রতিকের মো: আলমাছ মিয়া  (১৭২৫ ভোট) ।

৮ নং ওয়ার্ডের  ৩ টি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করায় সাধারণ কাউন্সিলর পদে ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

৯ নং ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন ব্রিজ  প্রতিকের মাহাবুব আলম ভূঞা( ২৬৫৪ ভোট),নিকটতম  পানির বোতল  প্রতিকের এম. এম আলমগীর (২৩৬৮ভোট)।

উল্লেখ্য, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম কাইয়ূম কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ এনে সেগুলোতে পুনর্বার যাচাই বাচাইয়ের মাধ্যমে র্নিবাচন দাবী করেন।

মাধবদী পৌরসভা

মাধবদী পৌরসভার সাধারণ  নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন মানিক ১৭ হাজার ১৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে  পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী মো: মনির হোসেন মামীম পেয়েছেন ৫০৯ ভোট। বিএনপি মনোনীত ধাষের শীষ প্রতীকের আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৪২৪ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল ফোন প্রতীকের ফরিদা ইয়াছমিন পেয়েছেন ১৮৯ ভোট।

এছাড়া, মাধবদী পৌরসভায় ১২টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন,

১ নং ওয়ার্ড-কেশব ঘোষ (পাঞ্জাবি মার্কা), ২নং ওয়ার্ড-রাজীব মিয়া (ডালিম মার্কা), ৩নং ওয়ার্ড মনির শাহ (পাঞ্জাবি মার্কা), ৪ নং ওয়ার্ড-শেখ ফরিদ (পাঞ্জাবি মার্কা), ৫ নং ওয়ার্ড-হেলাল উদ্দিন (উটপাখি মার্কা), ৬ নং ওয়ার্ড- দেলোয়ার হোসেন (উটপাখি মার্কা), ৭নং ওয়ার্ড-হায়দার আলী ( উটপাখি মার্কা), ৮নং ওয়ার্ড-গৌতম ঘোষ (পাঞ্জাবি মার্কা), ৯ নং ওয়ার্ড -দেলোয়ার মিয়া (ডালিম মার্কা), ১০ নং ওয়ার্ড- জাকির হোসেন (উটপাখি মার্কা), ১১ নং ওয়ার্ড- নওশের আলী (উটপাখি মার্কা), ১২ নং ওয়ার্ড-বাবুল মিয়া (পানির বোতল), মহিলা কাউন্সিলর হিসেবে ১.২.৩ নং ওয়ার্ড -পিয়ারা বেগম, ৭,৮.৯ ফাতেমা বেগম এবং ১০,১১,১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মায়া রাণী দেবনাথ।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধাষের শীষ প্রতিকের আনোয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী মো: মনির হোসেন শামীম ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা নির্বাচন বর্জনের এই ঘোষনা দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..