1. [email protected] : admi2019 :
  2. [email protected] : খুলনা বিভাগ : খুলনা বিভাগ
  3. [email protected] : Monir monir : Monir monir
  4. [email protected] : Mostafa Khan : Mostafa Khan
  5. [email protected] : mahin : mahin khan
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন

ক্যামেরা দেখে মুখে মাস্ক তুলে দেয় দোকানীরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১
  • ১২৮ বার পঠিত

নরসিংদীতে ঈদ কেনাকাটা

মো: শাহাদাৎ হোসেন রাজু, নরসিংদী

দোকানির মুখে মাস্ক নেই। কিন্তু মাস্ক রয়েছে তাঁর কাছেই। ক্যামেরা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখলেই তাঁরা মাস্ক তুলে দিচ্ছেন বা পরছেন। মাস্ক পরার বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, সব সময় মাস্ক পরে থাকা যায় না। তাদের ভালোও লাগে না। কেউ কেউ আবার বলছেন, মাস্ক পরে থাকলে ক্রেতারা কথা বুঝতে পারেন না। ক্রেতাদের অবস্থাও প্রায় একই রকম।

একজন ক্রেতা জানালেন, তিনি কখনও মাস্ক পরেন না। দেশে করোনারোধে সরকারের কঠোর বিধি-নিষেধ চলছে। গত সোমবার (২৫ এপ্রিল) থেকে দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ঈদ কেনাকাটা সাধারণ মানুষ ভিড় করছে বিভিন্ন দোকানপাট ও বিপণী বিতানগুলোতে। এদিকে ঈদের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। ফলে কেনাকাটার আরও চাপ বেড়ে চলেছে। অথচ যে কারণে সরকার কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করল, তা উপেক্ষিত হচ্ছে। মানে, দোকানপাট-শপিংমলে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এতে করোনা সংক্রমণ বাড়ার কথা বলছেন বিষেজ্ঞরা।

সোমবার সরেজমিনে ঘুরে নরসিংদী জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেটে সকাল থেকেই এই দৃশ্য দেখা গেছে। যদিও অন্যান্যবারের ঈদের আগের সময়ের তুলনায় এবছর ক্রেতাদের সংখ্যা কম। তবু করোনা সংক্রমণের মধ্যেই সোমবার জেলা শহরের বিপণি বিতানগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। শপিংমলগুলোর ভিতরে বাহিরে দেখে আসলে বোঝার উপায় ছিল না, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের দেওয়া কঠোর বিধি-নিষেধ চলমান আছে। মাস্ক বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের চেষ্টা অনেকে করেছেন। তবে এমন জনবহুল স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মানা যে সম্ভব নয়; তা স্বীকার করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

কেন মাস্ক পরেননি জানতে চাইলে ইনডেক্স প্লাজার মামনি বেবী ফ্যাশনের দোকানি বলেন, ‘সব সময় তো আর মাস্ক পরে থাকা যায় না। ক্যামেরা দেখলেই মাস্ক কেন পরলেন এমন প্রশ্নে ওই দোকানী ছিলেন নির্বাক।

নরসিংদী সিএন্ডবি রোডের সবুজ নামের আরেক বিক্রেতা অন্যদিনের তুলনায় ভালো বিক্রির কথা জানিয়ে বললেন, ‘অন্য দিনের তুলনায় ভালো বিক্রি হচ্ছে। আর সরকার যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলছে, তা চাইলে মানা সম্ভব। কিন্তু আমরা তো মাস্ক নিচে নামিয়ে রাখি। কারণ, কথা বলছে ক্রেতা সব সময় ভালো বুঝতে পারেন না। এখন কী করব বলেন? কাস্টমার যেহেতু ভালো বোঝে না, সেহেতু আমাকে মাস্ক খুলে কথা বলতে হয়।’

ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা করতে ভিড় জমেছে নরসিংদী বড় বাজারের কালীবাড়ী রোডে। এখানে জনসমাগম দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা করোনাকাল। এখানে স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই বললেই চলে। অধিকাংশ দোকানদারদের মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি।

নরসিংদীর কালীবাড়ি রোডে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সাইফুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘এখানে এসে দেখি, যেন করোনার হাট বসেছে। এসেতো ফেঁসে গেছি। তাই নিজে এখন ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

এসময় ফরিদা আক্তার নামে কথা হয় এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মাস্ক আমি কখনও পরি না। দোয়া পড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। আল্লার প্রতি বিশ্বাস আছে। আমার কোনো সমস্যা হবে না ইনশাল্লাহ।’

যদিও কেনাকাটা করতে করতে আরেক ক্রেতা বলছেন, ‘মার্কেটে যে অবস্থা দেখছি। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এখন এখানে নিজের ইচ্ছেশক্তির ওপর সব কিছু ডিপেন্ড করে। আমরা সেইফ থাকব কি থাকব না।’

এই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। নরসিংদী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু কাউছার সুমন জোনাকী টেলিভিশনকে বলেন, ‘সরকার মার্কেট খুলে দিয়েছে। অনেক কিছু বিবেচনা করে খুলে দিতে হয়েছে। কিন্তু সমস্যাটা অন্য স্থানে। সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। মাস্ক ব্যাবহার, হাত ধোয়ার অভ্যাস, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা…. এর কোনটাই সাধারণ মানুষ মানছে না। এটা কোনোভাবেই ঠিক হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই মুহূর্তে ভীষণ কঠোর হওয়া দরকার। যাতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কেউ চলাচল করার সুযোগ না পায়। আর তা না হলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিপদে ফেলে দিতে পারে বাংলাদেশকে।’

বাংলাদেশে এই যখন পরিস্থিতি ঠিক সে সময় পাশের দেশ ভারতে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। ভারতের অসহায় মানুষের অবস্থায় কাঁদছে পুরো বিশ্ব। তখন দেশের বিপণিবিতানগুলোতে এমন জনসমাগম আসলে করোনা সংক্রমনের শঙ্কাই বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করে জনস্বাস্থ্য বিশেষষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..